Tuesday, June 11, 2019

বাজেটে থাকছে যেসব নতুন চমক

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় দফা ক্ষমতার প্রথম বাজেটে (২০১৯-২০) থাকছে বেশকিছু চমক। এতে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরসহ এমন কয়েকটি জনকল্যাণমুখী  উদ্যোগের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা আগের কোনো বাজেটেই ছিল না। ইতোমধ্যে এই বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী  সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা হবে যা সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করবে। আর তাই এই বাজেট নিয়ে জনমনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। যেসব নতুন চমক থাকছে তা নিয়েই বাংলার আলোর আজকের আয়োজন।
বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল
আসন্ন বাজেটে প্রথমবারের মতো থাকছে বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল (স্ট্যাট আপ ফান্ড) এর উদ্যোগ। এ তহবিল থেকে স্বল্পসুদে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ব্যবসা কবতে পারবেন বেকাররা। এ ছাড়া কৃষকের জন্য ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে চালু করা হবে শস্যবীমা। প্রাথমিকভাবে বেছে নেয়া হবে একটি জেলাকে। পরবর্তী সময়ে এটি ছড়িয়ে দেয়া হবে সারা দেশে। এ ছাড়া নতুন উদ্যোগের মধ্যে থাকছে প্রবাসীদের জন্য বীমা সুবিধা।
প্রবাসী বীমা
বর্তমানে বিদেশে ৭০-৮০ লাখ প্রবাসী অবস্থান করছেন। আর প্রতিবছর নতুন করে দেশের বাইরে চাকরিতে যাচ্ছেন ৫-৭ লাখ মানুষ। এদের বীমা সুবিধার আওতায় আনা হবে। কারণ অনেকে বিদেশে গিয়ে চাকরি হারাচ্ছেন, দুর্ঘটনায় পঙ্গু ও নিহত হচ্ছেন। এ ছাড়া নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন। এসব ঝুঁকির কারণেই তাদের বীমার আওতায় আনা হবে।
মোট ব্যয়
আসন্ন বাজেট প্রস্তাবে মোট ব্যয় চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বাজেটের আকার হচ্ছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।
মোট আয়
বাজেট প্রস্তাবে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় হবে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান।
সামগ্রিক ঘাটতি
আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ (অনুদানসহ) দাঁড়াবে ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া এ ঘাটতির পরিমাণ হবে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। তবে অন্য বছরের ন্যায় জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে নতুন ঘাটতি বাজেট। এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি
আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছর ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জন হবে- এমন প্রত্যাশা থেকেই আগামী অর্থবছরের এ লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি রফতানি ও রাজস্ব আয়ের গতিশীলতার কারণে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সহায়ক হবে।
পণ্যের দামে প্রভাব
জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কম থাকবে। অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকবে। ফলে দেশের ভেতর পণ্যের দাম বাড়বে না- এমন আশা থেকেই নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ ছাড়া নতুন বাজেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। আর বেশি মনোযোগ থাকবে নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার প্রত্যয় থাকছে আসন্ন বাজেটে।

৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে পোশাক রফতানি আয়

তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত। সম্ভাবনাময় এ খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কর্মসংস্থানের বিশাল একটি বাজার। এ পোশাক শিল্পই হয়ে উঠেছে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। বর্তমান সরকারের ১০ বছরের শাসনামলে দেশের রফতানি আয়ে বিরাট অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় এবছর তৈরি পোশাক শিল্পে রফতানি আয় বেড়েছে ছাড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি ডলার। যার ফলে বিগত অর্থবছরের তুলনায় এই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ শতাংশ। এমনই তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কতৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। 
বাংলাদেশের জিডিপিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবদান দিনদিন বাড়ছে। বর্তমানে জিডিপির ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ অবদান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের। বাণিজ্যের এ প্রসারে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয়। যেখানে বাংলাদেশ আমদানি করে ১২০টি দেশে থেকে। বর্তমানে দেশের পণ্য রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার পণ্য রফতানি আয়ের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, তৈরি পোশাক রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ার কারণে সামগ্রিক পণ্য রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পোশাক রফতানি থেকে আয় এসেছে ৩ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের বেশি। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। একক মাস হিসেবে গত মে মাসে ৩৮১ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।
ইপিবি’র প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরণের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রফতানি আয় এসেছে ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ডলার। যদিও এই ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে গত মে মাসে ৩৮১ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এটি বিগত বছরের মে মাসের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের মে মাসে রফতানি হয়েছিল ৩৩২ কোটি ডলারের পণ্য।
বর্তমান সরকারের রপ্তানিমুখী বিভিন্ন ধরণের কার্যকরী উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রফতানি আয় তার প্রমাণ বহন করছে। শুধু রফতানিখাতই নয় লম্বা সময় ধরে একই সরকার ক্ষমতায় থাকায় দেশের সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে।

Saturday, June 8, 2019

চাকুরিচ্যুত কর্ণেল শহীদের স্ত্রী ও কন্যাদের এক বছরের জেল | Voice Of BD || NEW VIDEO …

চাকুরিচ্যুত কর্ণেল শহীদ উদ্দিন খানের দলিল জালিয়াতি: অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার নানাবিধ অপকর্মের কাহিনী। সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের জমি জোর পূর্বক দখল করেছে কর্ণেল শহীদ উদ্দিন ও তার ক্যাডার বাহিনী। https://web.facebook.com/voicebdlive/videos/2041053766200277/?t=239

পূর্বের পর্বে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি এমন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার দেখুন এই প্রত্যেকের পাপের ফলাফল!!

শেয়ার করতে ভুলবেন না!
পূর্বের ভিডিওগুলো দেখুন আমাদের পেজের ভিডিও ট্যাবে।

#BBC
#কর্ণেল_শহীদ_উদ্দিন
#দুর্নীতি
#প্রতারক_মানি_লন্ডারিং
#Voice_Of_Bangladesh
See Less

ঈদের আনন্দ বাড়াতে আলোর ফেরিওয়ালা এল বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পালেরপাড়া ও টেকনগপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এবারের ঈদটা একটু ব্যতিক্রম। ঈদের আনন্দের সাথে যোগ হয়েছে উক্ত এলাকা বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হওয়ার আনন্দ।  ঈদ উপলক্ষে নতুন মিটার দিয়ে উক্ত এলাকার ২০০ গ্রাহককে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পক্ষ থেকে আলোর ফেরিওয়ালার মাধ্যমে এ সংযোগ দেওয়া হয়।
পালেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এক দিনে আবেদন করে এক দিনেই নতুন মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছি। এতে অতিরিক্ত টাকাও লাগেনি। ফেরিওয়ালাদের মতো পল্লী বিদ্যুতের লোকজন ঘরে ঘরে গিয়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে।’
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ডিজিএম (সদর-কারিগরি) মোল্যা আবু জিহাদ জানান, ঈদ উপলক্ষে আলোর ফেরিওয়ালার মাধ্যমে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর ২০০ গ্রাহককে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘবের জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন ফেরিওয়ালার মতো গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এবারই প্রথম নয়, গত বছর থেকেই ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রধানমন্ত্রীর এই শ্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। নির্ধারিত জামানত জমাদানের মাত্র ৫ মিনিটেই গ্রাহদের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুতের মিটার ও তার সংযোগ দিয়ে ঘরে বাতি জ্বেলে দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে করে গ্রাহকদের এখন আর বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদ্যোগ্যটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ইতোমধ্যে।
আজ থেকে ১০ বছর আগেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পাওয়াটা ছিল মানুষের জন্য স্বপ্নের ব্যাপার। দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় মানুষের ভাগ্যে বিদ্যুৎ জুটতো মাত্র ৪/৫ ঘণ্টা, বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের লাইন নিতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছর পেরিয়ে গেলেও মানুষ কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ পায়নি। হাজার হাজার টাকা দিয়েও যেখানে মানুষের কপালে জোটেনি বিদ্যুতের লাইন সেখানে মাত্র ৫ মিনিটে ঘরে বসেই পাচ্ছে বৈদ্যুতিক লাইন। এ যেন সত্যিই স্বপ্ন। যা বাস্তবে রূপ নিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভাগ্য। এখন যেমন বর্তমানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেবা লোডশেডিং এক অকল্পনীয় ব্যাপার তেমনি এখানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উদ্যোগে মানুষের ঘরে ঘরে ভ্যানে করে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুতের মিটার। পল্লী বিদ্যুৎ দুয়ার মিটারিং কার্যক্রম এর আওতায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি ভ্যানে করে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ ও মিটার পৌঁছে দেয়ার চালু রয়েছে।
গ্রাহকদের বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে যাতে হয়রানীর শিকার হতে না হয় সে জন্য সারা দেশের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গ্রাহকদের জন্য বসানো হয়েছে হেল্প ডেক্স কর্নার। গ্রাহকরা বিভিন্ন আবেদন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, জামানত জমা ও উত্তোলনসহ যেকোনো সেবা এই হেল্প ডেক্স কর্নারের মাধ্যমে বিনামূল্যে সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

ভোগান্তি ছাড়াই রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

ঈদের ছুটিতে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে নাড়ির টানে যারা রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ জন্মস্থানে গিয়েছিলেন, ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে আবারো ঢাকা ফিরতে শুরু করেছেন সেসব মানুষ। এবার সড়ক মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকায় এবং বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইওভার সহ একাধিক নতুন ব্রিজ চালু করায় ভোগান্তি ছাড়াই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও লঞ্চঘাটে সকাল থেকেই ছিলো ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়। যারা এখন ঢাকায় ফিরছেন তারা অনেকটা অনায়াসেই ফিরতে পারছেন। নেই টিকিট নিয়ে ভোগান্তি। নেই যানজট কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা। কোন প্রকার ঝুটঝামেলা ও যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকায় ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। এছাড়া সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা সহ যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে ঈদের ছুটি শেষে কর্মচঞ্চল হওয়ার অপেক্ষায় রাজধানী ঢাকা, তবে এখনো রাজধানী ঢাকায় ঈদের ছুটির আমেজ পুরোপুরি কাটেনি। আজ থেকে কিছু কিছু বেসরকারি অফিস চালু হলেও সরকারি অফিস খুলবে আগামীকাল থেকে। রোববার অফিস শুরু হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম থাকবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অনেকে সাধারণ ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছেন। তারা যোগ দিবেন অতিরিক্ত দিনের ছুটি শেষে। যানজট আর জনজটের নগরীর সেই চিরচেনা রূপ পেতে সময় লাগতে পারে আরো এক সপ্তাহ। ঈদের একদিন আগে থেকেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছিলো ঢাকা। আজও তার ব্যতিক্রম না। রাস্তায় যানবাহনের চাপ তেমন নেই বললেই চলে। মার্কেট, বিপণি বিতানসহ পাড়া-মহল্লার অধিকাংশ দোকানই বন্ধ। অফিসপাড়ার প্রথম দিন হবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। একইভাবে ব্যাংকপাড়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লেনদেনও খুব একটা হবে না বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। আর যারা নানা কাজে ছুটি পাননি তাদের একটি অংশ এখন ঢাকা ছাড়ছেন। বেশি ছুটি নিয়ে সময় কাটাবেন প্রিয়জনদের সঙ্গে। তাই তো ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের বেশ ভিড় রয়েছে এখনও।
এবার ঈদে ট্রেনের উল্লেখযোগ্য কোনো শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। প্রায় সবগুলো ট্রেনই যথা সময়ে স্টেশন ত্যাগ করে নির্ধারিত সময়েই সংশ্লিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছেছে। অপরদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বাসের টার্মিনাল সায়েদাবাদে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে তেমন কোনো যানজট নেই। তাই মানুষ অল্প সময়েই রাজধানীতে ফিরতে পারছে।এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম রুট সদরঘাট নৌ বন্দরে ঘুরে জানা গেছে, গতরাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকা ফেরত যাত্রীদের মোটামুটি চাপ ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে চাপ অনেকটাই কমে এসেছে।
নানা শঙ্কার মধ্য দিয়ে এবার ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা শুরু হলেও সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি নতুন ব্রিজ চালু করা সহ দেশের অন্যান্য রুটেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্যা নেয়ায় ঈদে বাড়ি ফেরা ও ছুটি শেষে ঢাকা ফেরা উভয় ক্ষেত্রেই তেমন কোন ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।

Friday, June 7, 2019

জাল টাকার বাণিজ্যে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের পার্টনার হচ্ছেন তারেক!

নিউজ ডেস্ক: দেশের রাজনীতিতে পরাজিত হয়ে দুর্নীতির সুযোগ হারিয়ে ফেলায় এবার ঈদ উপলক্ষে দেশের অর্থ-বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে বাড়তি পয়সা আয়ের নতুন ফন্দি এঁটেছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। ঈদের পূর্বে ও পরে তারেকের এই বাণিজ্য চলমান আছে বলে জানা গেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আদায়ের টার্গেট পূরণ না হওয়ায় চলতি বছরের শুরু থেকে অর্থ-আদায়ের বিভিন্ন কৌশল খুঁজছিলেন তারেক। তাই দুবাই প্রবাসী কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে জাল টাকার বাণিজ্য করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন লন্ডনে পলাতক এই বিএনপি নেতা। লন্ডনে তারেক রহমানের বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখে এমন একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
লন্ডনভিত্তিক ওই সূত্রগুলো বলছে, বেগম জিয়ার মুক্তিতে আন্তর্জাতিক লবিং মেইনটেইন করতে লাখ লাখ পাউন্ড-ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে তারেককে। যার কারণে আর্থিক অনটন যাচ্ছে না তার। এতে খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তারেক। অর্থনৈতিক দুরবস্থা দূর করতে তাই এরইমধ্যে বাংলাদেশসহ আশপাশের আরো দুটি দেশে জাল টাকা ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবসার বিষয়ে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করার বিষয়েও পরিকল্পনা করেছেন তারেক। জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রাথমিক পরিকল্পনায় দাউদ ইব্রাহিমও রাজি হয়েছেন। এখন তিনটি দেশে বিশ্বস্ত এজেন্ট খোঁজার কাজ চলছে। গত ২৭ মে’র খবর অনুযায়ী, সব কিছু ঠিকঠাক হলে ঈদের পূর্বে ও পরে তিনটি দেশে দুবাই ও লন্ডন থেকে জাল টাকার বাণিজ্য শুরু হওয়ার কথা। যার তদারকি করবেন খোদ তারেক।
আরেকটি সূত্র বলছে, জাল টাকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য পাক-গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’য়ের সঙ্গে আঁতাত গড়ে তুলেছে দাউদ-তারেক কোম্পানি। জাল নোটের পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নেপালে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করার বিষয়টিও তদারকি করা হবে। এই বাণিজ্যের যা লাভ হবে তার ৪০ শতাংশ জমা হবে তারেকের বিভিন্ন দেশের অফসোর কোম্পানিগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

Monday, June 3, 2019

ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে নেই যানজটের ভোগান্তি

সিয়াম সাধনার মাস রমজানের চলছে শেষ কয়েকটা দিন। রোজা যদি ২৯শে হয় তাহলে ঈদ হবে ৫ মে বুধবার আর নাহলে ৬ মে বৃহস্পতিবার। আর যেই দিনেই হোক না কেন, ঈদকে সামনে রেখে পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে তত ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা। আর সেই কারণে ঢাকার চিরচেনা যানজট অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে যানজটে বসে থাকতে হয়না। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত শপিং মলগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। 
প্রতিবারই ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে চোখে পড়তো তীব্র যানজট।  ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদের কারণে তীব্র যানজট থাকতো। কুমিল্লায় মেঘনা সেতু থাকলেও তা ছিলো চাহিদানুযায়ী কম। একটি মাত্র সেতু আর টোল প্লাজার কারণে এই যানজট ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তো। তবে এবারের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ উপহার হিসেবে চালু করে দিয়েছেন দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু। এই কারণে এই মহাসড়কে এখন আর যানজটে পড়তে হয় না। যে সেতু পার হতে আগে ৫/৬ ঘণ্টা সময় লাগতো আর সেই সেতু এখন মাত্র ৪/৫ মিনিটের পার হওয়া যায়। দূরত্ব একই থাকলেও অপেক্ষার সময় এখন বেশ কমে গেছে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া যাচ্ছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টায়। যেখানে আগে ১০/১২ ঘণ্টা বসে থাকতে হতো।
এইতো গেলো ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের কথা। এখন উত্তরবঙ্গে যেতেও যানজটের সম্মুখীন হবে না মানুষ। আগে টাঙ্গাইল ছিলো দুই দুই করে চার লেনের রাস্তা। এখন সেই রাস্তা হয়েছে ছয় লেনের। আগে উত্তরবঙ্গের প্রবেশমুখ সিরাজগঞ্জে ছিলো বেশ ভাঙ্গা সড়ক সেই সাথে বিশাল গর্ত। এখন আর সেই অবস্থা নাই। সড়ক প্রশস্তকরণ ও সড়কের ভাঙ্গা অংশ ঠিক করার কারণে এই রুটে যানজটের পরিমাণ নেই বললেই চলে। আর ঈদের কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশের হাজারো সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক। এর কারণে এখন আর যানজটে বসে থাকতে হচ্ছে না যাত্রীদের। দ্রুতই চলে যাচ্ছেন নিজ নিজ এলাকায়। তাই এই ঈদেও তাদের যানজটের সম্মুখীন হতে হবে না তা জোর গলাতেই বলা যায়।
এখন আসি ঢাকা সিলেট মহাসড়কের কথা নিয়ে। ঢাকা সিলেট হাইওয়ে মোট ২১৮ কিলোমিটার সড়ক। আর এই সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াত করে অন্তত দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আটটি জেলার মানুষ। আগে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি যানজটে বসে থাকতে হতো হাইওয়ের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত ভুলতা এলাকায়। হাইওয়ের পাশাপাশি সেখান ঢাকা সিটি বাইপাসের রোড থাকায় যানবাহনের চাপ ছিলো বেশি। আর এই যানবাহনের চাপ কমাতে সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গড়ে তোলা হলো ভুলতা ফ্লাইওভার। চলতি বছরের মার্চে উদ্বোধন করা হয় এই ফ্লাইওভারের। আর এতে করে মুহূর্তেই কমে গছে সড়কের এই স্থানে যানবাহনের চাপ। মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টায় আসা যাওয়া করা যাচ্ছে ঢাকা থেকে সিলেটে। যেখানে আগে ১৪/১৫ ঘণ্টা পার হয়ে যেতো।
এদিকে দক্ষিণবঙ্গের মানুষদের সুবিধার্থে  দেশের প্রধান প্রধান নদীর শাসন করা হয়েছে। যেখানে পানির নাব্যতা কম ছিলো সেখানে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নদীর গভীরতা বাড়ানো হয়েছে। নদীর বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। যাতে মানুষ লঞ্চে করে নির্দ্বিধায় সহজেই যাতায়াত করতে পারে। আর এই ঈদের বড় চাপের কথা চিন্তা করে গত সাত আট মাস আগে থেকেই এই নদী শাসনের কাজ শুরু করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। 
আর সর্বশেষ ঢাকা যশোর রোডে মানুষের অতিরিক্ত সময় কমাতে সরকার হাতে নিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ। স্প্যান বসতে বসতে এখন সেতুর প্রায় দুই কিলোমিটার দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক দূরদর্শিতায় দ্রুত এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর কাজ। বেড়ে গেলে কাজের মাত্রা। প্রতিমাসে অন্তত দুইটি করে বসছে সেতুর স্প্যান। আর এতে করেই আগামী ২০২১ সালে উদ্বোধন হবে দেশের সবচেয়ে বড় ও চ্যালেঞ্জিং পদ্মা সেতু। আর এতে সরকার বদ্ধপরিকর।