Friday, January 18, 2019

পোশাক শ্রমিকদের মাঠে নামিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারেকের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক কুট-কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবার পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের নির্দেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করার চেষ্টা করেছে। সাধারণ শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শ্রমিক দলের নেতা নজরুল ইসলাম খানের পরোক্ষ ইন্ধনে রাজপথকে উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
১৩ জানুয়ারি মজুরি কাঠামোর ছয়টি গ্রেড সংশোধন করে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণার পরও ১৪ জানুয়ারি ঢাকার বাইরের বেশ কিছু কারখানায় জাতীয়তাবাদী  শ্রমিক দলের কর্মীরা বিনা কারণে ফের রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে।  তবে, পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্য্য আর দক্ষতার সাথে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
জানা যায়, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা নজরুল ইসলাম খানের সাথে ১৩ জানুয়ারি তারেক রহমান স্কাইপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। এসময় তারেক রহমান শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নজরুলকে দিক নির্দেশনা দেন। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ-সংগঠন শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মীদেরও সংগঠিত করে এই আন্দোলনে শরিক করার জন্য নির্দেশ দেন তারেক রহমান
এ প্রসঙ্গে শ্রমিক দল থেকে বহিষ্কৃত এক নেতা বলেন, যতটুকু জেনেছি তারেক রহমান শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিতে নজরুল ইসলাম খানকে নির্দেশ দিয়েছেন। জামায়াতের অশিক্ষিত কর্মীদেরও মাঠে নামানোর জন্য বলেছেন। আসলে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পর যেসব শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন তারা সরাসরি বিএনপি ও জামায়াতের সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মী। সাধারণ শ্রমিকরা এখন আর আন্দোলনে নেই। আমাকেও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান এই আন্দোলনে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।  কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি।
এর সত্যতা স্বীকার করে ‘ব্যান্ডো ইকো এ্যাপারেলন্স’ এর জসিম নামের এক শ্রমিক বলেন, আমাদের বেতন তো বাড়িয়েছে শুনলাম কিন্তু কেন যে আবার সবাই বের হয়ে আসল বুঝলাম না। তাই আমিও তাদের সঙ্গে বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। দেখলাম যারা বিএনপি করে এমন লোকজন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।  তাই আমি দ্রুত বাসায় চলে যাই।
আন্দোলনের প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডে বৈষম্য আছে বলে তাদের আন্দোলনে নামিয়েছে একটি কুচক্রী মহল।  পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি মহল চক্রান্ত করছে।  বৈষম্যের কথা বলে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে, কর্মবিরতি করতে প্ররোচিত করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, শ্রমিকদের বেতন নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা নজরুল ইসলাম খান এই আন্দোলনকে সংগঠিত করতে মূল ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা যায়।  আর পর্দার অন্তরালে তারেক রহমানের নির্দেশ অনুসরণ করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল পোশাক কর্মীদের উস্কানি দিয়ে কর্মবিরতি পালন করতে প্ররোচিত করছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তারেকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর

নিউজ ডেস্ক: এবার তারেক রহমানের অবৈধ রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। বাংলাদেশের আদালতে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্রিটিশ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেই মনে করছে লন্ডনের পররাষ্ট্র দপ্তর।

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য যে আবেদন করা হয়েছে, সেই আবেদনে পাঁচটি যুক্তি উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের সরকারের এই আবেদন এবং যুক্তিগুলোর ব্যাপারে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক বহিষ্কৃত নেতা জানান, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি তারেকের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখছে। তারেক রহমান যেহেতু দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি তাই তার রাজনৈতিক আশ্রয় সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে পাঁচটি যুক্তি উত্থাপন করে ব্রিটিশ সরকারের কাছে একটি আবেদন দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার এই আবেদনের প্রেক্ষিতে একটা শুনানি করেছিল। সেই শুনানিতে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হয়ে, তার আইনজীবীর মাধ্যমে রাজনৈতিক আশ্রয়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমান কেন রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য নন, তার পক্ষে আবার পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়। এখন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সাব কমিটি দুই পক্ষের বক্তব্যের আলোকে সত্যাসত্য যাচাই করবে। সত্যাসত্য যাচাইয়ের পর যে রিপোর্ট দিবে, সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তারেকের রাজনৈতিক আশ্রয় এবং যুক্তরাজ্যে থাকা না থাকা নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্র বলছে, ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। ২০১৩ সালে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দেন। শুধু তারেক রহমান-ই নন, তার স্ত্রী এবং কন্যা জাইমা রহমানও পাসপোর্ট জমা দেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালে প্রথম তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার ওই আবেদনকে আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য পুন:আবেদন করা হয়। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত বছর যুক্তরাজ্যে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তারেক কেন রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের যোগ্য নন এ ব্যাপারে ৫ টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছে, তারেক একজন দণ্ডিত অপরাধী। কাজেই কোন দণ্ডিত অপরাধী যুক্তরাজ্যে থাকতে পারেন না। এছাড়াও তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য যে তথ্য দিয়েছেন তা অসত্য। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য তার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করা উচিত।
এদিকে এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তারেক রহমান জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদীদের মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত। লন্ডনে থেকে সে জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তারেক রহমান ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেডের খাতায় লাল তালিকাভুক্ত আসামি এবং বাংলাদেশ থেকে পলাতক। কাজেই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর গুরুত্বও রিপোর্টে উঠে আসে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তারেক রহমান লন্ডনে বসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত করছে। কাজেই বাংলাদেশ বা কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী ব্রিটেনে আশ্রয় লাভের যোগ্যতা রাখে না।
প্রসঙ্গত, তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুটি মামলার রায় হয়েছে। দুটির কোনটিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। এই দুই মামলায় তার সাত বছরের দণ্ড দিয়েছে উচ্চ আদালত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নিম্ন আদালত। এই প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি যাচাই-বাছাই করে দেখছে এবং সাধারণত তারা ৩০ কর্ম-দিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। এই নিষ্পত্তির পরেই বোঝা যাবে যে তারেক রহমানকে কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

ড. কামালকে বাদ দিয়ে নতুনভাবে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ঘোষণা দিলো বিএনপি

নিউজ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য ড. কামাল হোসেনের নির্বুদ্ধিতাকে দায়ী করে তাকে বাদ দিয়ে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মূলত ১২ই জানুয়ারি ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (১৪ই জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা করবে বিএনপি। এখানে ড. কামালের মাথা ব্যথার কোন কারণ নেই।  আমরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে এখনও কোন আলাপ-আলোচনা করিনি। তবে আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। যদি প্রয়োজন পড়ে ড. কামালকে বাদ দিয়ে নতুন ভাবে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করবো।
এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা কথা বলতে রাজী হয়নি। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, জামায়াত ছাড়া কোন জোট হবে না।  এ বিষয়ে তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।  প্রয়োজন পড়ে ড. কামালকে বের করে দেয়া হবে, তবে জামায়াতকে নয়।
জামায়াতের মত দলের কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে পছন্দ করে না।  এটা জেনেও বিএনপি জামায়াতকে শুধু মাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ছাড়তে চাইছে না।  এছাড়া জামায়াত বিএনপির ডোনার হিসেবে কাজ করে। অর্থের লোভ এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা থেকে বাদ দিয়ে বিএনপি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করলে তা হবে দেশের জন্য মঙ্গলকর।

Tuesday, January 15, 2019

স্বাস্থ্যসেবায় রাষ্ট্রপতির জোর, সেবার মান উন্নয়নে শিগগিরই মনিটরিং সেল

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, সুস্বাস্থ্যই জীবনের সকল সুখের মূল ও সম্পদ। আর দেশের সাধারণ মানুষের সেই মূল্যবান স্বাস্থ্যসম্পদ যেনো সবসময়ই রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে দিকে বরাবরই জোর দিয়েছেন টানা দুই মেয়াদের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। যখনই সুযোগ পাচ্ছেন, তখনই তিনি স্বল্পমূল্যে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
রাষ্ট্রপতির মতে চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। যেখানে সরকার ও চিকিৎসকগণের উচিত সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করা যাতে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। আর যদি সেটা সম্ভব হয় তাহলে এতে করে রোগীদের বিদেশি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের ওপর নির্ভরতার মনোভাবও কমে আসবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সরকারও উদ্যোগী হয়েছে হাসপাতালে রোগীদের সেবার মান উন্নয়নের। সদ্য গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জনগনের সেবার মান নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে জনবলের নিয়মিত উপস্থিতি, যন্ত্রপাতির সঠিক পরিচর্যা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে।
অতীতের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি জানান, বর্তমান সরকার সেবার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি ক্রয়, জনবল বদলি ও পদোন্নতিসহ সেবাদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গত টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছর স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্যহারে উন্নয়ন হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। এসেছে অত্যাধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। হয়েছে ১০ হাজার চিকিৎসক এবং ১০ হাজার নার্স নিয়োগ।
নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি বিভাগে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট স্থাপনে উদ্যোগ বাস্তাবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। যেখানে শুরুতেই ক্যান্সার প্রতিরোধে জীবনাচারনে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুনরায় ছয় গ্রেডে বেতন বেড়েছে পোশাক শ্রমিকদের

গত ২৫ নভেম্বর পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর যে গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল সেটা বাস্তবায়ন হলে ‘বেতন আগের থেকেও কমে যাবে’ এমন গুজবের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনের পরপরই সপ্তাহ জুড়ে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছিল পোশাক শ্রমিকরা। এই গেজেটকে ‘বেতন বৈষম্য’ আখ্যা দিয়ে তাদের দাবি ছিল মজুরি বৈষম্য দূর করে নতুন মজুরি কাঠামো দেয়া। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোশাক শ্রমিক, মালিকদের সাথে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ওই বেতন কাঠামো পর্যালোচনা ও যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোয় সৃষ্ট সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও দ্রুত সমাধানের বিষয়ে পর্যালোচনা করে সপ্তম গ্রেড ছাড়া বাকিগুলোতে সর্বনিম্ন শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫.৩ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে। রোববার নতুন করে ঘোষিত এই বেতন কাঠামোতে ১৫ থেকে ৭৮৬ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়েছে।
একইসাথে নতুন বেতন কাঠামোতে চিকিৎসা, যাতায়াত, বাড়িভাড়া বাড়ানো ছাড়াও মূল মজুরির সঙ্গে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামো ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বাড়তি মজুরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে।
শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরির কয়েকটি গ্রেডে আশানুরূপ মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় পোশাক শিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার গ্রেডগুলোর মজুরি সমন্বয় করেছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বেতন কাঠামোকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে গত সপ্তাহের শুরু থেকে লাগাতার আন্দোলনে পোশাক শ্রমিকরা। আর রাস্তায় নেমে তাদের আন্দোলনের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে।
লাগাতার এই আন্দোলনের মুখে গত ৮ জানুয়ারি বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিদি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা হয়। গত ১০ জানুযারি বৃহস্পতিবার কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনটি গ্রেডের বেতন কাঠামো নিয়ে ত্রুটি চিহ্নিত করে রবিবার আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানানো হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর সাতটি সাতটি গ্রেডের মধ্যে ছয়টিতেই বেতন বেড়েছে। তবে ন্যূনতম বেতন আগেই মতোই আট হাজার টাকা রয়েছে। আর বেতন বেশি বেড়েছে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে জ্যেষ্ঠ শ্রমিকদের।
এদিকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, পোশাক কর্মীরা সোমবার থেকে কারখানায় কাজ না করলে তাদের কোনো মজুরি দেওয়া হবে না (নো ওয়ার্ক নো পে)। একইসঙ্গে ওই কারখানা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এক নজরে পোশাক শ্রমিকদের চূড়ান্ত সাতটি বেতন কাঠামো:
প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী সর্বমোট ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ছিল ১৩ হাজার টাকা এবং ২০১৮ সালের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ পর্যালোচনা করার পর বেতন বেড়েছে শতকরা ৪.২ শতাংশ বা ৭৪৭ টাকা।
দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ পর্যালোচনার পর শতকরা ৫.৩ শতাংশ বা ৭৮৬ টাকা বেড়েছে।
তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা। যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে ৯ হাজার ৫৯০ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ পর্যালোচনার পর শতকরা ২.৬ শতাংশ বা ২৫৫ টাকা বেড়েছে।
চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২০ টাকা এবং ২০১৮ সালের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে ৯ হাজার ২৪৫ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ পর্যালোচনার পর শতকরা ১.১ শতাংশ বা ১০২ টাকা বেড়েছে।
পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা। যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে ৮ হাজার ৮৫৫ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ পর্যালোচনায় শতকরা ০.২২ শতাংশ বা ২০ টাকা বেড়েছে।
ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৪২০ টাকা। যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ছিল ৫ হাজার ৬৭৮ টাকা এবং ২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে ৮ হাজার ৪০৫ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ এই গ্রেডে পর্যালোচনায় শতকরা ০.১৭ শতাংশ বা ১৫ টাকা বেড়েছে।
তবে বাড়েনি সপ্তম গ্রেডের মজুরি। যেখানে ২০১৮ সালের গেজেটের মতই সর্বনিম্ন মজুরি ধরা হয়েছে সব মিলিয়ে আট হাজার টাকা। যা ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন ছিল ৫৩০০ টাকা।

জাতীয় উন্নয়নে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব গ্রহণ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

গত দশ বছরে বর্তমান সরকারের অধীনে এরইমধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ খেতাব অর্জন করেছে। এ সময়টাতে তথ্যপ্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারের মধ্য দিয়ে দেশে একের পর এক উন্নয়ন হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশ অনুন্নত তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এই একই সরকার টানা তিনবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। যেখানে ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হয়েছেন প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার।
বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠাসহ ডিজিটাল রূপান্তরে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ বিশ্বের নানা দেশ অনুকরণ করছে। স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সর্বশেষ প্রযুক্তি যেমন- ব্লকচেইন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইত্যাদি সল্যুশন তৈরি করার মাধ্যমে বাংলাদেশে এরই মধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের একেবারেই প্রাথমিক পর্যায় শুরু করে দিয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গৃহীত নানান সফর পদক্ষেপে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব গ্রহণ করতে প্রস্তুত। সরকার এ বিপ্লবের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও জনবল তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি নিশ্চিত করাও অগ্রাধিকার হিসেবে আছে।’
মোস্তাফা জব্বার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছি আমরা। ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এটুআইর প্রকল্প পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ‘স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছি। বর্তমানে দুঃখজনক হলেও সত্য, ইন্ডাস্ট্রিতে কী ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা লাগবে সে বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় নেই। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার দক্ষতার ফারাক কমাতে হবে।
তিনি জানান, শিশুরা এখন যারা স্কুলে আছে, যখন তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে তখন তাদের নতুন ও যুগান্তকারী প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। তাই আমাদের এখন থেকেই ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মতো করে তাদের তৈরি করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব টেকসই উন্নয়নকে গতিশীল করবে। স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, অ্যানালাইটিক্স এবং আইওটি গ্রহণ বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে যেভাবে কাজের ধরন পাল্টে যাচ্ছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে, দেশের স্থিতিশীল নেতৃত্ব, বদলি যোগ্য দক্ষতা, উদ্ভাবনী মনোভাব এবং মানুষের উপযোগীকরণের পিছনে বিনিয়োগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বাংলাদেশের বৈপ্লবিক উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা আনছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে যেতে বাংলাদেশকে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সুবিধাগুলো গ্রহণ ও ব্যবহারের সোনালি সুযোগ দিচ্ছে।

আগামী মার্চ থেকে যাত্রীদের জন্য ‘ঢাকা-কলকাতা’ নৌসেবা শুরু

প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী মার্চ মাস থেকে নৌপথে যাত্রীসেবা চালু হতে যাচ্ছে। তবে নৌপথে যারা যাত্রী হবেন, ভ্রমণের জন্য অবশ্যই পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হেমনগরে হবে অভিবাসন ও শুল্কসংক্রান্ত কাজ। আর এ সেবায় বিলাসবহুল ক্রুজ জলযানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পানিপথের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
‘ঢাকা-কলকাতা’র এই নৌরুটটি কলকাতার মিলেনিয়াম পার্ক থেকে ছেড়ে হলদিয়া বন্দর হয়ে সুন্দরবন ধরে বরিশাল-নারায়ণগঞ্জ দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে অর্থাৎ, গত বছরের ২৫ অক্টোবরে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই নৌপথে যাত্রী চলাচল সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে এই সেবার আওতায় আসতে কিছু প্রতিষ্ঠান নৌ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। সেখান থেকে কিছু আবেদন কর্তৃপক্ষ যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী মার্চ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-কলকাতা নৌসেবা চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে নৌমন্ত্রণালয় সূ্ত্র।
এর আওতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে ভারত। এই চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য অভিন্ন নদীর সংস্কারের চেষ্টার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তা ছাড়া কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আসামের গুয়াহাটি ও জোরহাটের মধ্যে নদীপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
কলকাতা থেকে সুন্দরবন হয়ে ঢাকায় চলাচলে ১৩ দিন ১৪ রাতের প্যাকেজ থাকছে। যার মধ্যে প্রথম চার দিন কলকাতার মিলেনিয়াম পার্কের গঙ্গার ঘাট থেকে এটি ছেড়ে হলদিয়া বন্দর হয়ে ভারতের অংশের সুন্দরবন ঘুরে বাংলাদেশের সুন্দরবন হয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করবে। মূলত, ষষ্ঠ দিনে এই জলযানটি সুন্দরবনের ভারতীয় অংশ থেকে বাংলাদেশের সুন্দরবনে প্রবেশ করবে।
এরপর বাংলাদেশের সুন্দরবন ঘুরে বরিশাল হয়ে চলে যাবে নারায়ণগঞ্জে। সেখানে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ, পানামা সিটি ঘুরবে। এখানে যাত্রাবিরতি করে এলাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে ঢাকায় যাবে। তারপর আবার ফিরবে কলকাতায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনতলাবিশিষ্ট এই জলযানে রয়েছে এটিতে ২৬টি এসি রুম। প্রতিটি রুমই নদীর উপকূলমুখী। যাত্রীদের জন্য থাকছে রেস্তোরাঁ, স্পা ও জিম।