Monday, November 19, 2018

কনফারেন্সে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, আইন লঙ্ঘন করছে তারেক রহমান

অস্তিত্ব সংকটে থাকা বিএনপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম বিক্রি প্রক্রিয়া শেষ করেছে দলটি। মনোনয়ন ফরম বিক্রি প্রক্রিয়ার মধ্যেও পল্টনে পুলিশের উপর হামলা করেছিল দলটি। সন্ত্রাসবাদ যে দলের রগে রগে সে দল বিশৃঙ্খলা ছাড়া কোনো কাজ করতে পারে না এইটা জনগণ বুঝে গেছে। বিএনপি জোট মানেই সন্ত্রাসবাদ আগুন জ্বালাও পোড়াও এর রাজনীতি। এরই মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করেছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে রোববার সকাল ৯টার পর শুরু হয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা এবং নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানতে চাইছেন। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে যোগ দিয়েছেন, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হওয়া কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীও। কিন্তু তারেক রহমান একজন দণ্ডিত আসামি। একজন দণ্ডিত আসামি হয়ে দেশের জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার তিনি নিতে পারেনা না।  এইটা আইন এর লঙ্ঘন। তিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন। দণ্ডিত আসামি হয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের ব্যাপারে আইনের মধ্যে যদি কিছু থাকে, তাহলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেলে থাকতেন।  তিনি বিদেশী পলাতক হয়ে আছেন।  তিনি জেলে থেকে কখনোই এই সুযোগ পেতেন না তাই তিনি যে কাজটি করছেন তা সুস্পষ্ট আইন এর লংঘন। ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতেই এই সব করছেন দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমান। তার অস্তিত্ব  শেষ হয়েছে। জনগণ এখন তার সাজাভোগ দেখতে চায়। তারেক রহমানকে খুব শীঘ্রই দেশে এনে আইনের আওতায় আনা হবে। নিশ্চিত পরজয়ের জেনে নানারকম কর্মকান্ড ঘটিয়ে চলেছে তারেক রহমান। তার কর্মকাণ্ডে খোদ বিএনপির অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ। তার কর্মকাণ্ড সুস্থ রাজনীতির সাথে মানায় না।  বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হোক তারেক রহমানকে, এইটাই জনগণ এর প্রত্যাশা।

বিএনপির ক্ষমতায়ন সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান, বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দেশকে সন্ত্রাসবাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। নির্বাচনের আগে নয়াপল্টনে দলটির নেতাকর্মীরা পুনরায় সন্ত্রাসবাদের একটি সূচনা অংশ জনসম্মুখে এনেছে। যা আরও বাড়তে পারে এবং বিএনপি যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসে তবে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের সন্ত্রাসবাদী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের শাসনামলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, খুন, গুম, চাঁদাবাজে অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল এদেশের সাধারণ জনগণ। নির্বিচারে মানুষ হত্যা, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতাসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে নিজেদের একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে প্রমাণ করেছে দলটি।
চলতি বছরে কানাডার ফেডারেল কোর্ট কর্তৃক বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে রায় দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, এ সত্য সর্বজনস্বীকৃত যে, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত। ফলে সেই দল নিয়ে নতুন করে বলার কিছু থাকে না। ফেডারেল কোর্ট যে রায় দিয়েছিল তা মূলত তাদের শাসনামলে সংগঠিত নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং এ থেকে এই প্রমাণ হয় যে, পুনরায় ক্ষমতায় আসলে বিএনপি তাদের মুখোশ উন্মোচন করে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান ঘটাবে। আর বিএনপি নেতাকর্মীরা তারই প্রমাণ দিলেন ১৫ নভেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে। ফলে তারা যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসে তবে ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দল হিসেবে এবং পূর্বের সন্ত্রাসবাদী চেহারা উন্মোচন করে দেশকে বিভীষিকাময় করে তুলবে ভেবে আমার ভয় হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ দলটির ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতার নির্দেশ ও মদদে নয়াপল্টনে পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। এসময় পুলিশের ৩টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রায় ঘণ্টা তিনেকের এই অগ্নিসন্ত্রাস ২০১৪ সালের ভয়াবহতা সামনে এনেছিল। বিএনপির নির্বাচনী সহিংসতা ভুলতে বসলেও নয়াপল্টনে তাদের অগ্নিসন্ত্রাস দেখে মানুষ আবারও আতঙ্ক।
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের কিছুটা আস্থা ফিরতে শুরু করলেও নয়াপল্টনের ঘটনায় তারা আবারও শঙ্কিত। বিএনপি দীর্ঘদিন নীরব থেকে হঠান প্রমাণ করলো ক্ষমতার জন্য তারা বারবার জনগণকে জিম্মি করতে পারে। ছড়িয়ে দিতে পারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তাদের কাছে আসলে দেশ বড় নয়, ক্ষমতা বড়। ক্ষমতার জন্য তারা যেকোন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আর তারা তা তৈরির করার জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীকে ব্যবহার করে। এ কারণেই নির্বাচনে তারা জামায়াতকে ছাড়ল না। সুতরাং বিএনপির সন্ত্রাসবাদকে রুখে দিতে প্রতিটি জনগণেরই সচেতন হওয়া দরকার।

আবাসিক নেতা রিজভী সমাচার

রুহুল কবির রিজভী। বিএনপিতে হাতেগোনা যে’কজনকে খাম্বা তারেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে ভাবা হয়, রিজভী তাদের একজন। আড়ালে আবডালে দলেরই অনেকে রিজভীকে ‘তারেকের বেতনভুক্ত কর্মচারী’ বলে তামাশা করে থাকেন।
প্রায় ২৪ ঘন্টাই এই রিজভীকে বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘আবাসিক নেতা’ খেতাবও পেয়েছেন।
এতে অবশ্য রিজভী রাগ করেছেন বা লজ্জা পেয়েছেন, এমন নজির নেই। বরং কার্যালয়ের ভেতরে গান শুনিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য তৃতীয় শ্রেণির কিছু নারী কন্ঠশিল্পীর ব্যবস্থা করেছেন কার্যালয়ে। এসব নিয়ে হাওয়ায় অনেক কথাই ভেসে বেড়ায়।
তবে অন্যকিছুই যে করেন না এই আবাসিক নেতা, তাও নয়। লন্ডন থেকে মুঠোফোনে ভেসে আসা নির্দেশ পালনে রিজভীর জুড়ি মেলা ভার। তারেকের নির্দেশে এযাবৎকালে সংগঠিত সকল হত্যা-নাশকতায় রিজভী প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন, এমনটাই চাউর আছে খোদ বিএনপির অন্দরমহলে।
নয়াপল্টনের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে লিখিত বিবৃতি পাঠ করে হম্বিতম্বি করাও অনেকটা তার দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। টানা দশ বছর যাবত একই ভাষায় লেখা বিবৃতি শুনতে শুনতে গণমাধ্যমকর্মীরাও এখন অতিষ্ঠ। এখানেও রিজভী পেয়েছেন নতুন খেতাব। ‘বিবৃতি রিজভী’ বললেই সকলেই তাকে একনামে চিনে নেন।
এক-আধবার রিজভী অবশ্য রাস্তায়ও নেমেছেন। তবে তা মর্নিং ওয়ার্ক ছিল নাকি ফুটবল টিম গঠনের উদ্দেশ্যে লোকবল সংগ্রহের জন্য ছিল, সে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে।
ভোর পাঁচটা-ছয়টায় কেউ যদি জগিং এর পোশাক পরিহিত অবস্থায় ৮-১০ জনকে সাথে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে দৌঁড়াতে থাকেন, তাতে এর বেশি আর কিই-বা ভাবা যায়!
রিজভী অবশ্য অনেকদিন যাবতই ভাবছেন যে তারা অচিরেই ক্ষমতায় আসছেন। সেই ভাবনা থেকেই পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মনোনয়নের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা বাঁধিয়েছেন রাজাকারপুত্র ফখরুল ওরফে ফকার সাথে। বেদম মারও খেয়েছেন রিজভী। তারেকপন্থীদের পেটাতে ফখরুল-আব্বাসেরা এখন যে আর ভাববেন না, সেটাও এখন পরিস্কার।
তবে ক্ষমতায় যাবার পথ পরিস্কার করতে না পেরে রিজভী গং একের পর এক জন্ম দিচ্ছে হাস্যকর সব ঘটনা। বিএনপি ঘোষিত ‘ঈদের পরের আন্দোলন’ দেশবাসীর চর্মচক্ষে দেখার দুর্ভাগ্য না হলেও, তাদের সুড়সুড় করে নির্বাচনী ট্রেনে উঠে পড়ার বিনোদনমূলক ঘটনা অবলোকন করছে দেশবাসী। যদিওবা আবাসিক নেতা রিজভী ইতোমধ্যে খুনী খালেদা-তারেক গংবিহীন নির্বাচনে যাবেন না বলে আমতা আমতা করে বলেছেন। অন্যান্য ‘জলে ভাসা প্রতিশ্রুতি’গুলোর ন্যায় তার এ প্রতিশ্রতিও বিবৃতি রিজভী ঠিক কতদিন রাখবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সরকারকে বৈধতা দিয়ে নির্বাচন করায় দল ছাড়ছেন লাখো বিএনপি কর্মী

নিউজ ডেস্ক: তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এরইমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু শেষ করে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেছে বিএনপি।

সূত্র বলছে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যেতে রাজি নয় তৃণমূল বিএনপি। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করা মানে সরকারের সকল কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়ার শামিল। যে সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে সেই সরকারের অধীনে গৃহপালিত দল হিসেবে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় বিএনপি ও তারেক রহমানের উপর চরম ক্ষিপ্ত হয়েছে তৃণমূল বিএনপির নেতৃবৃন্দ। আন্দোলন ও জেল-জরিমানার ভয়ে প্রিয় নেত্রীকে জেলে রেখে তারেক রহমানের নিদের্শে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে মনের ক্ষোভ নিয়ে লাখ লাখ বিএনপি নেতা-কর্মীরা দলত্যাগ করছেন। এছাড়া লন্ডনে অবস্থান করে বিএনপিকে খালেদাবিহীন বিএনপিতে পরিণত করার চক্রান্তে তারেক রহমানের উপর চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তারা কোনভাবেই খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পক্ষে নন।
আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া বেগম জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না, বেগম জিয়া ছাড়া নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হবে- এমন মন্তব্য করে যশোর জেলা যুবদল সভাপতি তমাল আহমেদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বর্তমান সরকারকে বৈধতা দিয়েছে। এখন নির্বাচনের পর যদি ফলাফল নেতিবাচক হয় তবে বিএনপি অন্তত সরকারকে দোষারোপ করতে পারবে না। কারণ, বিএনপি জেনে-শুনেই খাল কেটে নিজ ঘরে কুমিরকে ঢুকিয়েছে। এই সরকার ‘সাপের মুখে চুমু দেয় আবার ব্যাঙের মুখেও চুমু দেয়’। আমরা শুনেছি, তারেক রহমান বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর স্বার্থেই খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ তারেক স্যারের উচিত ছিলো নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া। বিএনপির এমন বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তে তৃণমূলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এরইমধ্যে যশোর জেলার লাখ লাখ বিএনপি নেতা-কর্মী রাগ, ক্ষোভ নিয়ে গোপনে দলত্যাগ করছেন। খবর পেয়েছি, সারা দেশের হাজার হাজার বিএনপি কর্মীরা অভিমান নিয়ে দলত্যাগ করছেন। বিষয়টি বিএনপির জন্য ক্ষতিকার কারণ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন বলেছেন, এই সরকারের অধীনেই যদি নির্বাচন করতে হয় তাহলে বিএনপি ২০১৪ সালে কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, সেই প্রশ্নটি তৃণমূল কর্মীদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়া খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পক্ষে নয় তৃণমূল বিএনপি। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অর্থ হলো- বিএনপি দাবি আদায়ে ব্যর্থ। বিএনপি আন্দোলন, সংগ্রাম করতে ভয় পায়- সেটি প্রমাণ হলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে। নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারকে বৈধতা দিয়ে দিলো। বিষয়টি তৃণমূল বিএনপির জন্য কষ্টকর ও বেদনাদায়ক। আমি মনে করি, যে সরকার ম্যাডামকে জেলের রেখে কষ্ট দিচ্ছে, সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন করলে ম্যাডামের অপরাধকে দলীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। আমরা জেনেছি, তারেক রহমানের নির্দেশে মির্জা ফখরুলরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এতে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বাদ দিয়ে সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে লাখ লাখ নেতা-কর্মী দলত্যাগ করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

ড. কামালের মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক সংসদ গঠনের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিবেন তারেক!

নিউজ ডেস্ক : দেশের ২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিককে সংসদে দেখতে চান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।  যাদের নির্বাচনে বিজয়ী করে অর্থবহ সংসদ গঠন করাই তার লক্ষ্য।  তবে ড. কামাল হোসেনের এমন চিন্তাকে প্রাধান্য দিবেন না লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমান।  তারেক রহমানকে জ্ঞানভিত্তিক সংসদের চেয়ে পেশিশক্তির প্রভাবে গঠিত সংসদকে বেশি প্রাধান্য দিবেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

গণফোরাম সূত্রে জানা যায়, নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরাম নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির কাছে ৫০ টি আসন চাইবে।  এর মধ্যে প্রায় ২৫টি আসনে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিতে চায় দলটি।  যাদের মধ্যে রয়েছেন- আইনজীবী শাহদীন মালিক, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, রাকিবউদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক আসিফ নজরুল প্রমুখ।  যাতে করে এই প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করা যায়।  এই লক্ষ্যে দলটির শীর্ষ নেতারা কয়েক দফায় বৈঠক করে প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।  আগামী ২০ নভেম্বর চূড়ান্ত তালিকাটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বিএনপির কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ড. কামাল যে সংসদ গঠন করার স্বপ্ন দেখছেন সেটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে।  তারেক রহমানের মত দণ্ডিত অপরাধী কোনদিনই জ্ঞান ও মেধার মূল্য বুঝবেন না।  তারেক রহমান নিজেই অল্প শিক্ষিত।  শিক্ষার আলো তার অন্তরে পৌঁছায়নি ঠিক মত।  তিনি শিক্ষা ও মেধার পরিবর্তে পেশিশক্তি ও অর্থকে বেশি মূল্যায়ন করবেন, এটাই স্বাভাবিক।  আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, তারেক রহমান ড. কামালের মত শিক্ষিত ও জ্ঞানী মানুষের কথাকে দাম দিবেন না।  ড. কামালেরও উচিত তারেক রহমানের মত অর্ধ-শিক্ষিত মানুষের কাছে জ্ঞান ও মেধার কথা না বলা।  জ্ঞান ও দুর্নীতি একসাথে চলতে পারে না।  রাষ্ট্রীয় সম্পদের দিকে যারা শকুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তারা মেধা ও জ্ঞানকে পথের কাঁটা মনে করেন।

Sunday, November 18, 2018

“জনস্বার্থে নাকি জনগণের ক্ষতির জন্য বিএনপির এই সংঘর্ষ?”

ঢাকায় এখন চাল ভিক্ষা দেওয়া হয় না। অর্থ-সম্পদ বেড়েছে। মানুষের পকেটের ফাঁকে টাকার উঁকিঝুকি দেখা যায়। তারমানে দেশ নি:সন্দেহে অনেক দূর এসেছে। খাবারের অভাব নাই। একইসাথে কোমড় শক্ত করা উন্নয়নও হচ্ছে। বারবার সরকার পরিবর্তনের কিছু কুফল আছে। এতে অবকাঠামোগত সফলতার হার কমে যায়। চাল-ডালের দামের সাথে অবকাঠামো উন্নয়নের বেশ সম্পর্ক আছে।
শেখ হাসিনা সরকার একাধারে টানা দশ বছর থাকাতে রাস্তা,ঘাট, ব্রীজ, বিদ্যু‌ৎ, তেলসহ অবকাঠামোর নানান দিকে বাংলাদেশকে মোটামুটি সফল বলা যায়। সূর্যের চেয়ে বালির গরম বেশী। আওয়ামী লীগের অতি উ‌ৎসাহী কর্মীরা শতভাগ সফলতার যেমন দাবি করেন, দলটির প্রধান এবং দায়িত্বশীল নেতারা বরং আরও উন্নয়নের জায়গা আছে বলে ভাবেন।
জনগণকে বিগত সাফল্যের জন্য হলেও আবার তাদের ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। নৌকা মার্কায় ভরসা রাখতে বলেন। এমন অনুরোধ তারা করতেই পারেন। তারপরও ধরে নেওয়া যাক, জনস্বার্থের অমিমাংসিত কোন ইস্যুর তাড়নায় বিএনপি নামের একটা রাজনৈতিক দল জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন চালিয়েছে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাঁধিয়ে পুলিশের গাড়ীও পুড়িয়ে দিয়েছে। কিছু অবুঝ, অর্বাচীন কিশোরের এতে সমর্থন থাকলেও থাকতে পারে। বয়সদোষে কেউ কেউ একে সংগ্রাম বা বিপ্লবও ডেকে বসতে পারে। তবে একজন সুনাগরিক বা মানবিকবোধসম্পন্ন কারো সায় এতে পাওয়া যাবেনা। কারণ সরকার পছন্দ না হলে আরকিছু দিন পরেই ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ আছে।
আচ্ছা ধরে নেওয়া যাক বিএনপি নামের রাজনৈতিক দল জনস্বার্থে নয়াপল্টনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। জণগনের উন্নয়ন আর ভালোর কথা ভেবে তারা পুলিশের লাঠিচার্জের স্বীকার হয়েছে। সেক্ষেত্রে অন্যায় সমর্থনেরও সুযোগ থাকতো। তবে বেজায় দু:খের সাথে জানাতে হয় বিগত দশ বছরে বিএনপি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন ইস্যুতে আন্দোলনতো দূরের কথা, রাস্তায়ও নামেনি। গনতন্ত্র, নির্বাচন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার, নামের যে আন্দোলন এবং সংঘর্ষ এতদিন বিএনপি করে এসেছে তার সবই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দখল করে ক্ষমতা লাভের জন্য। তারমানে ১৫১ জন মানুষের জন্য আন্দোলন।
বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের মত মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের রাজনীতি থেকে অনেক দূরে এসব নির্বাচন, গনতন্ত্র, ভোটের রাজনীতি। বিএনপি গত দশবছরে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। জনগণের পাশে যে দল থাকবে না, জনগনের কথা ভাববে না তারাই রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া।

হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে পেতে নতুন প্রকল্প : ফিরে আসছে মসলিন

প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্যের কথা আসলেই সবার আগে যার নাম আসে তা হলো ঢাকাই মসলিন। সেই প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবী জোড়া কদর ছিল এই মসলিনের। ফুটি কার্পাস নামের তুলা থেকে প্রস্তুত অতি চিকন সুতা দিয়ে  তৈরি হতো এই মসলিন। মসলিনের সূক্ষ্ম ও মিহি সুতার বুনন শৈলী খুব সহজেই  সকলের মন জয় করে  নিতো। মসলিনের এই সূক্ষ্মতা বুঝাতে লোকমুখে প্রচলিত ছিল নানা জনশ্রুতি । বারো হাতের মসলিন  শাড়িকে একটি দিয়াশলাইয়ের ভিতরে রাখা যেত অনায়াসে। যদিও এই জনশ্রুতির প্রমাণ আজও মিলেনি। লোকমুখে শুনে স্থানীয় মানুষের বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে এই জনশ্রুতি।
‘মসলিন’ শব্দের উৎপত্তির উৎস অস্পষ্ট। কেউ বলেন, মসলিন শব্দটি ইরাকের একটি প্রাচীন ব্যবসা কেন্দ্র মসুল থেকে উদ্ভূত। আবার কেউ কেউ মনে করেন, দক্ষিণ ভারতে ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কোম্পানির এককালের সদর দপ্তর মসলিপট্টমের সঙ্গে মসলিন শব্দটি সম্পৃক্ত। মসলিন ফার্সি, সংস্কৃত বা বাংলা শব্দ নয়। সম্ভবত ইউরোপীয়রা মসুল থেকে যেসব বস্ত্র আমদানি করত এবং প্রাচ্যের অপরাপর দেশ থেকে মসুল হয়ে যেসব বস্ত্র আনা হতো তারা তার নাম দেন মসলিন।
সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন আবার ফিরে আসবে। দেশের তাঁতিরা মসলিন কাপড়ের মিহি বুননে শৈলী ফুটিয়ে তুলবেন। মসলিন আবারও জনপ্রিয় হবে। ফিরে আসবে সোনালি ঐতিহ্য। এরকম স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। এ জন্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারে নতুন গবেষণাধর্মী প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি পাস করা হয়েছে।
মসলিনকে ফিরে পেতে তাঁত বোর্ডের নেওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে  ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। এতে মসলিনের প্রযুক্তি উদ্ধার করা হবে। পুরো প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড সূত্রে জানা যায়,  এই বিনিয়োগ বা গবেষণা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য এ প্রকল্পের আওতায় মূলত মসলিন কাপড় তৈরির জন্য তুলাগাছ লাগানো হবে। পরে সেই তুলা থেকে সুতা তৈরি করে মসলিন কাপড় বানানো হবে। এজন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মসলিন কাপড় তৈরি উপযোগী সুতা তৈরির জন্য কিছু তুলাগাছ লাগানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সেসব গাছে ফুলও ধরতে শুরু করেছে। এরপর তুলা সংগ্রহ করে নমুনা হিসেবে সুতা ও কাপড় তৈরি করা হবে।
প্রাচীন যুগে তাঁতিরা যে পদ্ধতিতে মসলিন বুনতো সেই পদ্ধতি তাঁদের নিজস্ব প্রযুক্তি। তাঁদের হারানো সেই প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক গৃহীত হারানো মসলিন পুনরুদ্ধার করার জন্য তিনটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার; দ্বিতীয়ত, পরীক্ষামূলকভাবে মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরি এবং তৃতীয়ত, বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার।
এ প্রকল্পের আওতায় মসলিন সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি বিষয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু এলাকার তাঁতিদের প্রাধান্য দেয়া হবে। এলাকাগুলো হলো ঢাকার ধামরাই; মানিকগঞ্জ সদর ও শিবালয়; টাঙ্গাইলের নাগরপুর, ভূঞাপুর ও মধুপুর; গাজীপুরের কাপাসিয়া; নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ; নরসিংদী সদর ও পলাশ; ময়মনসিংহ সদর; কুমিল্লার চান্দিনা; বান্দরবান সদর; খাগড়াছড়ি সদর; রাঙামাটি সদর; রাজশাহী শহর ও যশোর সদর।
মসলিন বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য এবং আভিজাত্যের প্রতীক। মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা, গ্রিক পর্যটক পিনটনি, টেইলর, উরে প্রমুখ তাঁদের লেখায় বাংলার মসলিনের বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে জানা যায় যে মসলিন বস্ত্র প্রাচীনকাল থেকে প্রচলন থাকলেও ঢাকাই মসলিন মোগল আমলে প্রসিদ্ধ হয়। মোগল আমলে ঢাকাই মসলিন দেশ-বিদেশে প্রায় একচেটিয়া বাজার দখল করে। সতেরো শতকের প্রথম দিকে পর্তুগিজরা মসলিনের ব্যবসা করত। ওই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে অন্য ইউরোপীয় বণিক, যেমন ওলন্দাজ ও ফরাসি কোম্পানি ঢাকা শহরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। তারাই মসলিনের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন যুগের সূচনা করে। ইংরেজ কোম্পানি আমলে মসলিন শিল্পের অবনতি হয়। একপর্যায়ে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আবার দেশে ফিরে আসবে দেশের হারানো সেই ঐতিহ্য। আবারো প্রসিদ্ধ হবে দেশের বুনন শিল্প এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।