Thursday, October 18, 2018

অটিজম মোকাবেলায় সরকারের সাফল্য

অটিজম কোন, বংশগত বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক সমস্যা। এ সমস্যাকে ইংরেজিতে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বলে। অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অটিজমের লক্ষণগুলো একদম শৈশব থেকেই, সাধারণত তিন বছর থেকে প্রকাশ পেতে থাকে। এই অটিজমকে এক সময় পাপ বা অভিশাপ বলে মনে করা হতো। তারা সমাজের কাছে ছিল বোঝা এবং পরিবারের কাছে ছিল অবহেলিত। সেই সময় অটিস্টিক শিশুদের সুষ্ঠু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য ছিল না যথাযথ পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যবস্থাপনা।
দিন বদলের পালায় বর্তমান সরকার অবদান রেখেছে এই অটিজম শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তনয়া সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অটিজম মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অটিস্টিক শিশুরা প্রত্যেকে  আলাদা হওয়ায় তাদের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। দক্ষ-অভিজ্ঞ প্রশিক্ষিতদের তত্ত্বাবধান, বিশেষ শিক্ষা কর্মসূচির ব্যবস্থা, প্রত্যেক শিশুর বিশেষ চাহিদা পূরণ, বিকলাঙ্গ শিশুদের আর্থিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। মানসিক ও শারীরিক উভয় ধরণের অটিস্টিক শিশু রয়েছে। তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অটিজম বিশেষজ্ঞরা বলেন, অটিজম চিকিৎসায় ওষুধের কোনো ভূমিকা নেই। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। তবে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুই আলাদা হওয়ায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারটি একজনের চেয়ে আরেকজনেরটা আলাদা। যত আগে অটিজমের বিষয়টা উপলব্ধি করে চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভালো। সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুই উন্নতি করে।
সাধারণ শিশুদের মতো অটিজম শিশুরাও মেধাবী। তাদের মেধা ও শ্রমকে সব কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মূলত এই সকল বিষয় নজরে রেখে অটিজম শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
ঢাকার মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে অটিজম রিসোর্স সেন্টার ও একটি অবৈতনিক বিদ্যালয় স্থাপন করে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে বিভিন্ন সেবা দেয়া হচ্ছে। এখানে অটিস্টিকসহ প্রতিবন্ধী মানুষদের একসঙ্গে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রয়াস’ নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় এর নতুন শাখা করার কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি সেনানিবাসে শাখা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল বই দেয়া হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় তাদের জন্য রাখা হয়েছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট।
অটিজম আক্রান্ত শিশুদের  দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে থেরাপিউটিক,  কাউন্সিলিং ও অন্যান্য  সেবা এবং সহায়ক উপকরণ দেয়া হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩৯টি উপজেলায় মোট ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে ২৪ লক্ষ প্রতিবন্ধী সেবা গ্রহণ করছে। ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ ১৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করে অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সমস্যাজনিত শিশুদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে অটিজম আক্রান্তদের শনাক্ত করে তাদের কাউন্সিলিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম’-এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের প্রাথমিক পরিচর্যাকারী হিসেবে মায়েদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অটিজম ও স্নায়ু-বিকাশজনিত সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার জন্য বিশেষজ্ঞ গ্রুপের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের উপযোগী করে স্ক্রিনিং টুলস প্রণয়ন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অটিস্টিক শিশুদের আঁকা ছবি দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দিবসের কার্ড’ তৈরি হয়।
অটিজম মোকাবেলায় আরো কতকগুলো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। অটিজম আক্রান্তদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষায় নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও সেখানে তিন হাজার একশ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কাজেই বলা যায়, প্রতিবন্ধীদের প্রতিপালনে রাষ্ট্রের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করছে সরকার। সেবামূলক এই কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা গুলোকেও অটিজম মোকাবিলায় এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারায় আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার স্থাপনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ‘বিশেষ সফটওয়্যার’ তৈরি করে অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। এ ছাড়াও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রত্যেক শিশুকে শিগগিরই ‘প্রিভিলেজ কার্ড’ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা, কেনাকাটা, শিক্ষা, গাড়ি পার্কিংসহ সবক্ষেত্রে তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন।
১৯৯৯ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরে জেপিইউএফ-এ পরিণত হয়। অটিজমসহ এনডিডি (নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার) আক্রান্তদের চিকিৎসাসহ যাবতীয় অধিকারের সুরক্ষা আইনের আওতায় আনতে ২০১৩ সালে ‘ডিজএবিলিটি ওয়েলফেয়ার অ্যাক্ট’ ও ‘দ্য ন্যাশনাল নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার প্রটেকশন ট্রাস্ট অ্যাক্ট’ করা হয়। ২০১১ সালের জুলাই মাসে ঢাকা সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী ‘সাউথ এশিয়ান অটিজম নেটওয়ার্ক’ গঠিত হয়, যার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দৈহিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের সমাজের অংশ বলে গণ্য করার জোর প্রচার চলছে।
সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়বিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার কাজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে  ‘হু অ্যাক্সিলেন্স’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। পুতুলের উদ্যোগেই ২০১১ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় অটিজম নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ  সম্মেলনের পর গড়ে ওঠে সাউথ এশিয়ান অটিজম নেটওয়ার্ক।
একটি রাষ্ট্র তখনই কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়, যখন প্রত্যেক নাগরিকের জন্য যথাযথ সুযোগ-সুবিধা বজায় থাকে। অটিজম শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে গৃহীত মা-মেয়ের নানা কার্যক্রম জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পেয়েছে স্বীকৃতি এবং অর্জন করেছে প্রশংসা। অটিজম শিশুদের অবহেলা করে মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে নজর রাখছে সরকার। সাধারণ শিশুদের পাশাপাশি অটিজম শিশুরাও পাবে অধিকার এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

চামড়া শিল্পের বিষ্ময়কর উন্নয়নে সরকারের অবদান

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম কাঁচা চামড়া রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত। আমাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত চামড়া শিল্প। এ খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ২ লাখ। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ চামড়া পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বের ৮ম স্থানে ছিল। এছাড়াও সরকার এই খাতকে এগিয়ে নিতে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে আরও দু’টি চামড়া শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২১ সালে সরকার ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে শুধু পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার আর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় হবে ৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে চামড়া শিল্প থেকে রফতানি আয় ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। এটিকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে যা যা দরকার তার সবকিছুই করবে বর্তমান সরকার।
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ রোধকল্পে সরকার হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প ২০১৭ সালে স্থানান্তর করেছে। আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার ব্যবস্থা সম্বলিত ১২৮৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। সাভারের নতুন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পরিবেশ দূষণ রোধ হবার পাশাপাশি বিদেশে গুণগত মানের চামড়া রফতানিতে সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ট্রাভেল ব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া চামড়ার তৈরী নানা ফ্যান্সি পণ্যের চাহিদাও রয়েছে। বাংলাদেশে প্রচুর হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এসব পণ্য তৈরী করে বিশ্ব বাজারে রফতানি করছে। বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বড় বাজার হলো- ইটালি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স জার্মানি, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এর  বাইরে জাপান, ভারত , নেপাল ও অস্ট্রেলিয়াতেও সম্প্রতি সময়ে পণ্যটির বাজার গড়ে ওঠেছে। তবে বিশ্বে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো জাপান। মোট রফতানি পণ্যের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ যায় জাপানের বাজারে। বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বর্তমান বাজার ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশের হিস্যা হলো শতকরা ০.৫ ভাগ ।
২০১২-১৩ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হতে আয় হয় ৯৮ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এখাতে আয় হয় ১১২ কোটি ৪১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১১৩ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করা হয়। তারপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে আয় হয় ১১৬ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। এতে দেখা যায় প্রতি বছরই এ খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে রফতানি আয় ও পণ্যের পরিমাণ। তবে ১৫৯টি ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর ও অবকাঠামো নির্মাণজনিত সমস্যার কারণে চলতি ২০১৮ সালে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ১৩৮ কোটি ডলারের (১.৩৮ বিলিয়ন ডলার) কিছু কম হতে পারে। তবে কারখানা অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হলে আগামী বছর থেকে চামড়া পণ্য রফতানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

নির্বাচন উপলক্ষে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে বিএনপির গোপন আঁতাতের খবর ফাঁস

সামনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গেলবারের মত আর ভুল করতে চায় না বিএনপি। এবার তাই আটঘাট বেঁধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের। এমনিতে বিএনপির আন্দোলনের মূল এজেন্ডা হিসেবে সবসময়ই তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। বিরোধী দল হিসেবে জনস্বার্থে কখনই কোন কথা না বলাতে দলটি তাই অনেকদিন যাব‌ৎ জনবিচ্ছিন্ন। জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সব সরল পথ বন্ধ। অতএব শেষ উপায় পেছনের রাস্তা। একের পর এক বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে উস্কানি কিংবা সরকার উ‌ৎখাতের গোপন ষড়যন্ত্র যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে তখন দলটি তাদের পুরানো মিত্রদের কাছে আবারো সাহায্য প্রার্থনা করেছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আএসআই ও তাদের পুরোনো বন্ধুদের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিতে কোন কার্পণ্য করেনি।
জানা যায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে মেজর জেনারেল থেকে সদ্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল হওয়া নাদিম জাকি মাঞ্জ এবং ওয়াসিম আশরাফের সাথে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এই বছরের শুরু থেকেই যোগাযোগ করে আসছেন। ইতোমধ্যে নামে এবং বেনামে পাকিস্তান থেকে দুবাই হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ৫৮৭ কোটি টাকা বাংলাদেশে এসেছে। বাড়তি সাবধানতার জন্য সোমালিয়া, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এবং হুন্ডির মাধ্যমে এই অর্থ পুরো সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে আসতে থাকে। নির্বাচনকালীন প্রশাসনকে প্রভাবিত করা, নাশকতা এবং ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই বিনিয়োগ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ: শেখ হাসিনার উপহার

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের মানুষ আজ পরিচিত ডিজিটাল বাংলাদেশের  সাথে। একসময় যা ছিল শুধুই স্বপ্ন, তা আজ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দায়িত্ব নেয়ার সময় একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার অনুযায়ী এগোচ্ছে দেশ।
২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণই ছিল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান বিষয়। দেশের মানুষ আজ পাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ সুবিধা।
দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া। এক সময় মাধ্যমিক পাশ করার পর উচ্চ মাধ্যমিক অর্থাৎ একাদশ শ্রেণীর ভর্তির আবেদনের জন্য বিভিন্ন কলেজের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো আবেদন করার জন্য। সেই সাথে ভোগান্তি পোহাতে হতো অভিভাবকদের। ২০১২ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিকে আবেদনের জন্য নিয়ে আসা হয় অভিনব পদ্ধতি। দেশের যে কোনো জায়গায় বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে একাদশ শ্রেণীর জন্য।
দেশের সকল মানুষের জন্য নিয়ে আসা হয় তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজন নাগরিক সেবা পাচ্ছেন মোবাইলের মাধ্যমে। নাগরিক সেবার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিল গ্রামের জনসাধারণ মোবাইলের মাধ্যমেই পরিশোধ করতে পারছে। বিল পরিশোধ করার জন্য এখন আর সময়, শ্রম নষ্ট করে দূরে যেতে হয় না। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে গেছে বিদ্যুতের সেবা। সরকারি বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি আছে সৌর বিদ্যুৎ সংযোগ।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের ৪,৫৪৭ ইউনিয়নে চালু হয় এই সেবা কেন্দ্র। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একজন পুরুষের সঙ্গে একজন নারী উদ্যোক্তা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব সেবাকেন্দ্রে কম্পিউটার কম্পোজ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য, ভর্তি ফরম পূরণ, জন্ম নিবন্ধন, বীমা, মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষিকাজের জন্য মাটি পরীক্ষা ও সারের সুপারিশ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, ডাক্তারি পরামর্শসহ দৈনন্দিন ৬০ ধরণের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি নির্বাচিত কিছু ডিজিটাল সেন্টার থেকে পাসপোর্ট ও ভিসার আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩০০৮টি সেন্টারে চালু হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা।
বিশ্বে শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এর জন্য প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ পাড়ি জমায় বিদেশের মাটিতে। যারা দেশের বাহিরে কাজের জন্য যেতে আগ্রহী তাদের মধ্যে ২০ লাখ ২২ হাজার ৪৩৬ জন শ্রমিক অনলাইনে ডিজিটাল সেন্টারে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে বড় একটি সংখ্যায় নারীও রয়েছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল সেন্টার তৃণমূল সেবার হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পর দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে ৪০৭টি ডিজিটাল সেন্টার ও ৩২১টি পৌরসভাতে ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। আইসিটি ডিভিশন এবং এটুআইয়ের মতে, প্রতি মাসে গড়ে ৪০ লাখ মানুষ এসব কেন্দ্র থেকে সেবা নিচ্ছে। এটুআইয়ের হিসেবে ডিজিটাল সেন্টার থেকে উদ্যোক্তারা এর মধ্যে আয় করেছেন ১৪০ কোটি টাকা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি ওয়েবসাইট ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’-এ ৪৩ হাজার দপ্তর এখন সংযুক্ত। এতে যুক্ত হয়েছে মন্ত্রণালয় বিভাগ, অধিদপ্তর, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নের ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট। ২০১১ সালে ১৪ নভেম্বর দেশের জেলায় জেলায় ই- সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়। এই ই- সেবা কেন্দ্র থেকে ৮ লক্ষাধিক সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।
দরপত্র আহ্বান করার জন্য চালু করা হয়েছে ই-প্রকিউরমেন্ট। বর্তমানে অনেক মন্ত্রণালয় অনলাইনের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করছে।  টেন্ডার বাণিজ্য রোধে এই ধরণের পদক্ষেপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আদালতের কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজড করতে চালু হয়েছে মোবাইল কোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। স্বল্প পরিসরে চালু হওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের যাবতীয় ডক্যুমেন্ট অনলাইনে সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও এটুআই (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে সকল রেকর্ড এসএ, সিএস, বিআরএস ও খতিয়ান কপি ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি খতিয়ান ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল রেকর্ড রুম। এর মধ্যে ২৩ লাখ ২০ রেকর্ড ডিজিটাল সিস্টেমে প্রদান করা হয়েছে।
সরকারি অফিস – আদালতের কাজকর্ম আরও স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য চালু করা হয়েছে ই – ফাইলিং সিস্টেম। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ১৬টি মন্ত্রণালয়-বিভাগ-অধিদফতর এবং ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ই-ফাইলিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
‘তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষক কর্তৃক মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি, শিক্ষক বাতায়ন, ই-বুক, মনিটরিং ড্যাশবোর্ড ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক নামক মডেলগুলো উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ মডেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপযোগী কন্টেন্ট তৈরি করে ক্লাসে ব্যবহার করছেন। ২৩,৩৩১টি মাধ্যমিক ও ১৫,০০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১,৮০,০০০-এর বেশি শিক্ষক এবং ১,৬৫০ মাস্টার-ট্রেইনার মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছেন।
কৃষি খাতকে আরো আধুনিক করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নিত্য নতুন পদ্ধতি। কৃষকদের কৃষিসংক্রান্ত সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য তৈরী করা হয়েছে ‘ কৃষি বাতায়ন ‘.
‘রূপকল্প -২১’ ও ‘ রূপকল্প -৪১’ বাস্তবায়নের জন্য সরকার দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে । তৈরী করছে অত্যাধুনিক সব অবকাঠামো। বিশ্ববাসী একসময় যে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে জানতো সেই দেশ আজ উপচে পড়া ঝুড়িতে রূপান্তরিত হয়েছে গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে।

Tuesday, October 16, 2018

তারেকের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব এবং নিকাহনামা!!

মাহবুব খন্দকার, বিশ্লেষক: ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলাসহ ১৭টি মামলার অভিযুক্ত আসামী হিসেবে চিকিৎসার নামে লন্ডনে পলাতক আছেন বিএনপির প্রধান নীতিনির্ধারক তারেক রহমান। তারেক একাধিক মামলায় আদালতের রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত আসামী।
সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের বাংলাদেশী এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় বেশ কিছুদিন সরগরম ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। সরকারের পক্ষ থেকে পাসপোর্ট জমা দিয়ে তারেক বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছে বলা হয়েছিল। বিএনপি সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তারেকের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।
তারেক রহমান ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য ৬ মাসের ভিসা নিয়ে লন্ডন যান। কিন্তু বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে দেশে ফেরা থেকে বিরত থাকেন তিনি।
ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ব্রিটেনে অবস্থানের দুইটি উপায় আছে। একটি হল সেদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে থাকা, অন্যটি হল উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে থাকা। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য পাসপোর্ট ব্রিটিশ সরকারের কাছে সমর্পণ করে আবেদন করতে হয়।
প্রায় ১০ বছর আগে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারেক রহমান কোন উপায়ে লন্ডন অবস্থান করছেন? যেহেতু বিএনপির পক্ষ থেকে তারেকের পাসপোর্ট সমর্পণ এর ব্যাপারটি অস্বীকার করা হয়েছে সেহেতু তারেকের রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার কোন সুযোগ নেই। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসে- তারেক কি তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন?
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পলাতক তারেক রহমান ব্রিটেনের কোম্পানি হাউসে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণীতে নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। কোম্পানি হাউসের ওয়েবসাইটে হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্ট লিমিটেড (ব্রিটিশ কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন নম্বর-০৯৬৬৫৭৫০) নামের একটি নতুন কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে তারেক রহমান নিযুক্ত হন ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। এই কোম্পানির অর্ধেক মালিকানা তারেকের নামে এবং বাকি অর্ধেক তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের নামে।
উল্লেখিত তথ্য থেকে পরিষ্কার যে, তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয় নয় বরং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েই লন্ডনে অবস্থান করছেন। তারেকের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হওয়া যায় সম্প্রতি লন্ডন বিএনপির দায়িত্বশীল এবং সিনিয়র একজন নেতার বক্তব্য থেকে। ঐ নেতা বলেন, ‘তারেক জিয়াকে সরকার আর দেশে ফেরত নিতে পারবে না। তিনি এখন ব্রিটিশ নাগরিক। নিজের নাগরিকের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকারের।’
ব্রিটিশ আইনে বিদেশীদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম এবং প্রায় একমাত্র উপায় হচ্ছে ব্রিটিশ কাউকে বিয়ে করে নাগরিকত্ব অর্জন করা। যুক্তরাজ্যে Temporary marriage বহুল প্রচলিত। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডিত চৌধুরী মইনুদ্দিনদের সহায়তায় তারেক এই বিয়ে সম্পন্ন করে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করে। নিজের স্ত্রীকে না জানিয়ে, দেশে আসা ঠেকাতে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই তারেকের এই গোপন বিয়ে বলে নিশ্চিত করেছেন খোদ বিএনপিরই লন্ডনস্থ নেতা কর্মীরা।
অপরাজনীতির খোলস হিসেবেই যেন এখন নিজের থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারেক রহমান।

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় মা–ছেলে ছাড় পেলেন কেন?

বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের ফাঁসি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওই হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা জেলার সহ-সভাপতি মাহবুবা পারভীন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলার পর শাড়ী পরিহিত ও এক হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে ফুটপাতে এক নারীর ক্ষত বিক্ষত দেহ পড়ে থাকার যে ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল- সেটি মাহবুবা পারভীনের আহত হওয়ার ছবি।
একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ওই দিনের হামলায় আহত কামরাঙীর চরের মাহমুদা মনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে সম্রাট আকবর সবুজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের শরীরে এখনও বোমার স্প্লিন্টার আছে। আমরা দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছি। এই ন্যাক্কারজনক হামলার মূল হোতা হলেন তারেক জিয়া। অথচ তাকেই ফাঁসির রায় না দিয়ে যাবজ্জীবন রায় দেয়া হলো। তার ফাঁসির রায় হলে আমরা খুশি হতাম’।
বর্তমানে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ঢাকা মহানগরী বিএনপির সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের দিন তার বাড়িতেই ছিল অন্তত ৫ জন বিএনপি কর্মী। নিউইয়র্ক সময় মধ্যরাতের পরে রায় ঘোষণা হয়।
রায় শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন সাদেক হোসেন খোকা। বলেন ‘বাবর আর পিন্টু তো তারেকের নির্দেশ পালন করেছেন মাত্র। নির্দেশ পালনের জন্য যদি ওদের মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে নির্দেশ দাতার যাবজ্জীবন কীভাবে হয় বলো?’
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন খোকা। বলেন, ‘বেচারা পদত্যাগ করতে চেয়েছিল। তাকে দিয়ে এসব করাতে বাধ্য করানো হয়েছিল।’
এই রায়ে অবাক হয়েছেন বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের মুখ্য সচিব ড. কামাল সিদ্দিকীও। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় ব্যস্ত এই সাবেক আমলা বলেন, ‘পরিকল্পনা যদি হাওয়া ভবনেই হয়, এটা প্রমাণিত হয়, আর তারেক যদি ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীই হন, তাহলে তো এই রায় একটু অবাক করেই বটে।’
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা রায়ের আরো একটি দুর্বল ঘোষণা হল ত‌ৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নির্দোষ বিবেচনা করা। যদিও সে সময়ে পুলিশের করা একটি তদন্ত রিপোর্টে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তারেক জিয়ার নাম দেখে সেই রিপোর্ট ছুড়ে ফেলে দেন।
এই ব্যাপারে ব্যারিষ্টার ড. তুহিন আফরোজ বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সচেষ্ট ষড়যন্ত্রের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে আদালত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা এটাও জেনেছি যে তদন্তেও আসামিদের জবানবন্দীতে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে শুধু তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর-ই হামলা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। একই সাথে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা বেগম খালেদা জিয়াও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে জানতেন। তিনি নিজেও হামলার আলামত নষ্ট করার আদেশ দিয়েছিলেন এবং এ হামলা সম্পর্কে তদন্ত করতে নিষেধ করেছিলেন। তাহলে, আমাদের প্রশ্ন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সচেষ্ট ষড়যন্ত্রের কারণে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র-প্রতিমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে ছাড় দেয়া হল কেন’?

ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ: শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক, উদার চেতনা

ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন একটি মন্দির। বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশসমূহের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শত বছরেরও পুরোনো প্রাচীন এ মন্দিরের ধর্মীয় এবং ঐতিহ্যগত গুরুত্ব অনেক। কালের পরিক্রমায় এ মন্দির বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ এবং আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের প্রত্যক্ষ নজির হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯০৮ সালে ভাওয়ালের রাজা এ মন্দিরের জন্য জমি দান করেন। কালক্রমে মন্দিরের প্রাথমিক দানকৃত জমি বিভিন্ন সময়ে বিক্রয় ও বেদখল হয়ে যায়। ভারত ভাগের পরবর্তী সময়ে তৎকালীন কয়েকজন সেবায়েত এ মন্দিরের বেশ কিছু জমি স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করে দেন। কয়েক দফায় হাত বদলের পর মন্দিরের ৩২ কাঠার অধিক জমির ক্রয়সূত্রে মালিকানা জনাব আজম আজমী এবং তার তিন ভাই লাভ করেন এবং জমিটি নিজেদের দখলে রাখেন। ষাটের দশক থেকেই এ জমি নিয়ে আজমী পরিবারের সাথে মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়ানী মোকদ্দমা চলছে। পঞ্চান্ন বছরের অধিক সময় ধরে মোকদ্দমা চলার পরও জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার আইনগত সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার নির্দেশনা দেন। তাঁর দিক-নির্দেশনায় সেই ৩২ কাঠা জমির ক্রয় ও দখল সূত্রের মালিক আজম আজমী পরিবার এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। আলোচনা চলাকালীন সময়ে আজম আজমী পরিবার মন্দিরের ঐতিহ্য এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কথা বিবেচনা করে স্বল্পমূল্যে (১০ কোটি টাকা) উক্ত জমি মন্দিরের কাছে হস্তান্তরের জন্য রাজি হন। এ বিষয়ে তাদের উপর কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। বরঞ্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অন্যধর্মের প্রতি উদার মনোভাবের কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা তাদের জমিটুকু স্বল্পমূল্যে হস্তান্তরে খুশি। তারা এ বিষয়ে কাউকে অপরাজনীতি না করতে তারা অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের আরেকটি যথাযথ উদাহরণ হিসেবে এই জমি হস্তান্তরের ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য থাকবে। মুসলিম পরিবারের মালিকানায় থাকা জমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ দিক-নির্দেশনায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে মন্দিরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। এছাড়াও বাংলাদেশের বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতির মূল অবদান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যা আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত কিংবা মিয়ানমারের জন্যেও শিক্ষণীয়।