Tuesday, June 18, 2019

ছাত্রদলের দাবি মানা সম্ভব নয়, জানিয়ে দিলেন গয়েশ্বর!

নিউজ ডেস্ক: ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়স সীমা তুলে দেওয়ার দাবিতে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করেছে আগের কমিটির ছাত্রদল নেতারা।
গত ১১ জুন দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আশ্বাস দিলেও নতুন করে তৈরি হওয়া বিক্ষোভের প্রথম দিনেই বিক্ষুব্ধ নেতাদের হতাশ করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবিতে অনেক অসঙ্গতি থাকায় তা মেনে নেয়া সম্ভব নয়।
রোববার (১৬ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গয়েশ্বর এসব কথা জানান। তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতাদের এই দাবি অন্যায্য এবং অযৌক্তিক। তাদের দাবি মেনে নেয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।
এদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র যখন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন, তার আগে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা ওই কার্যালয়ের সামনে দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। তিনি নতুন করে ছাত্রদলের কর্মীদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, গায়ের জোরে কেউ কমিটির নিয়ম পরিবর্তন করতে চাইবে, দলের হাইকমান্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবে- এটা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, তারা যদি এসব অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করেন তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগে গঠিত ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত ৬ জুন ভেঙে দেওয়ার পর বিক্ষোভ শুরু করেন সংগঠনটির নেতারা।
নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যে তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী শর্ত যোগ করা হয়েছে তা নিয়ে জোর আপত্তি রয়েছে সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতাদের। ওই শর্তে বলা হয়েছে, নতুন কমিটিতে নেতা হতে হলে অবশ্যই ২০০০ সালের পরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এই শর্ত পূরণ করতে গেলে বর্তমানে সক্রিয় অনেক ছাত্রদল নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারবেন না বলেই তারা আন্দোলনে নেমে পড়েছেন। গত ১১ জুন তারা নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করে।
তারপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে কথা বলে আশ্বস্ত হলে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে। পরে পাঁচদিন পার হয়ে গেলেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার প্রেক্ষিতে নতুন করে রোববার (১৬ জুন) থেকে নতুন কর্মসূচি শুরু করে ছাত্রদলের কর্মীরা। দুই ঘণ্টা পর তারা উঠে গেলে ওই কার্যালয়ে থাকা বিএনপির অন্যতম নীতি-নির্ধারক গয়েশ্বরকে পেয়ে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধদের দাবির বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। এর প্রেক্ষিতে তিনি দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বুলু’র দাবার গুটি ছাত্রদল!

নিউজ ডেস্ক: আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিল ছাত্রদল। সঠিক নির্দেশনার অভাবে বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ খ্যাত সেই ছাত্রদল এখন নির্জীব হয়ে পড়েছে। এবার সেই নির্জীব ছাত্রদলকে কাজে লাগিয়ে দলে প্রভাব বিস্তার করতে উঠেপড়ে লেগেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বলা চলে ছাত্রদলকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করছেন বুলু।
গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুলুর নির্দেশে কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার অজুহাতে ১১ই জুন সকাল সোয়া ১১টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। বিএনপির কার্যালয়ে তালা লাগানোর ষড়যন্ত্রে বুলুর সঙ্গে আরো ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রশিক্ষণ বিষয় সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন। মূলত এ চারজন নেতা চাচ্ছেন, ছাত্রদলকে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলকে হটিয়ে পুরো বিএনপির দায়িত্ব নিজ হাতে নিতে।
জানা গেছে, ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পিছিয়ে নেই মির্জা ফখরুলপন্থী ছাত্র নেতারাও। বুলুপন্থী ছাত্রদল নেতারা নয়াপল্টন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেন মির্জা ফখরুলপন্থী ছাত্রনেতারা। এসময় তাদের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের কমিটির বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
বুলুপন্থী চার নেতা মির্জা ফখরুলপন্থী দোষারোপ করছেন করে বলছেন, তাদের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণেই ছাত্রদলসহ গোটা বিএনপির আজ এ অবস্থা। তাই নেতৃত্ব বদল করে বিএনপি সজীব করতে তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফখরুলপন্থী নেতারা তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানতে পেরে, তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বুলুপন্থী নেতাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পার্টি অফিস থেকে বের করে দেন।
এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুলপন্থী এক ছাত্রদলের নেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ছাত্রদলকে হাত করতে কমিটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নামে নতুন নাটক করছেন বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি মনে করেন, ছাত্রদল নেতাদের খেপিয়ে তুলে পুরো দলের দায়িত্ব তার কাঁধে নিতে পারবেন। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মির্জা ফখরুল সাহেব এসব বিষয়ে ওয়াকিবহাল আছেন। কেউ তার দায়িত্ব ছিনিয়ে নিতে আসলে আমরা তা শক্ত হাতে দমন করবো।
বিএনপি বর্তমান অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এই দুর্দিনে বিএনপির উচিত সংগঠিত থেকে কাজ করা। অথচ বিএনপির কিছু নেতা এখনো দলের ভেতরে অধিক ক্ষমতাবান হতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটা খুবই দুঃখজনক। এমন চলতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর বিএনপি নামক একটি দল ছিলো, তাও ভুলে যেতে পারে সাধারণ মানুষ।

যানজট কমাতে ঢাকায় নির্মাণ হচ্ছে পাতাল রেল

যানজটের শহর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আর এই যানজটেই প্রতিদিন নষ্ট হয় কয়েক লক্ষাধিক কর্মঘণ্টা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে এই সড়কেই। আর ঢাকার এই যানজট কমাতে সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারসহ নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে তারা। তবে ঢাকার গত দশ বছরের যানজটের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নতুন নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের  কারণে যানজট বহু অংশে কমে এসেছে। এদিকে ঢাকার যানজটকে আরও কমাতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। দ্রুত যাতায়াতের উদ্দেশ্যে পাতাল রেল নির্মাণের চিন্তা ভাবনা হাতে নিচ্ছে সরকার।
এর অংশ হিসেবে ঘনবসতির শহর ঢাকায় দুই বছর ধরে হয়েছে পাতাল রেল (সাবওয়ে) নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই। এর মাধ্যমে প্রথম পাতাল রেলের রুট ও নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) প্রস্তাবনা অনুযায়ী, রুট ‘এমআরটি লাইন-১’ হবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত।
মূল নকশা প্রণয়নের কাজও শেষ প্রান্তে জানিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ‘এমআরটি লাইন-১’ এর মূল ডিপিপিও (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে অনুসারে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এ রুট। থাকছে দু’টি অংশ। প্রথম অংশ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত। ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ অংশটি হবে দেশের প্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল বা পাতাল রেল। অন্য অংশ পূর্বাচল থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রুটটি হবে এলিভেটেড অর্থাৎ মাটির উপর দিয়ে উড়াল রুট।
দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে জনসাধারণের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা থাকলেও এই পাতাল রেল নির্মাণে কোনো ভোগান্তি হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, পাতাল রেলের সমস্ত কাজ মাটির নিচ দিয়ে হবে। রুটের ওপরের অংশে নিয়মিতভাবে যানবাহন চলাচল করবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ঢাকা শহরের তলদেশ ও ভূমির বৈশিষ্ট্য পাতাল রেল (আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়ে) নির্মাণের উপযোগী, যা জাপানের ওসাকা শহরের মতো। এ কারণে ওসাকা শহরের মতোই রাজধানীর মাটির ২০ থেকে ২৫ মিটার গভীরে পাতাল রেল নির্মাণ করা হবে। আর পাতাল রেল নির্মাণে টানেল খননে অত্যাধুনিক টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহৃত হয় বিধায় কাজের সময় জনদুর্ভোগ হবে না। পরিবেশ বিপর্যয়ও হবে না বলা চলে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলমান পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পের চেয়েও ব্যয়বহুল। অবশ্য প্রকল্পের একাংশের কাজের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ চুক্তি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
পাতাল রেল প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, বিমানবন্দর ও কমলাপুর রুটে দেশের প্রথম পাতাল রেল হবে। আমরা ডিপিপি চূড়ান্ত করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। আমাদের দিক থেকে কোনো কাজ বাকি নেই। পাতাল রেল নির্মাণে কোনো ভোগান্তি হবে না। কারণ সমস্ত কাজ মাটির নিচ দিয়ে যাবে। প্রকল্পে জাপান সরকার আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই ঋণ চুক্তিসহ হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেলের মতো এটাও তরুণ প্রজন্মের কাছে একটা স্বপ্নের প্রকল্প।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের ভায়াডাক্ট, টানেল, এলিভেটেড অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন পূর্তকাজের জন্য সার্বিক নকশা চূড়ান্ত। ডিপোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ নকশা ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেমের জন্য মৌলিক নকশাও করা হয়েছে। স্বপ্নের এ প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রোরেলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে হচ্ছে ‘এমআরটি লাইন-১’ এর আওতায় হচ্ছে প্রথম পাতাল রেল।

Sunday, June 16, 2019

বিএনপির ছন্দপতনের জন্য দায়ী বেগম জিয়ার নির্বুদ্ধিতা ও তারেকের লুটপাট!

নিউজ ডেস্ক : হঠাৎ ছন্দপতনে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির যে দৈন্যদশা দেখা দিয়েছে সেটির জন্য কেবল মাত্র বেগম জিয়ার অদূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাবকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া তারেক রহমানের সীমাহীন লুটপাট, বেগম জিয়ার উদ্দেশ্যহীন রাজনীতি, নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা, শিক্ষার অভাব, অহংকার এবং অতিরিক্ত পরিবার প্রীতির কারণে আজকে বিএনপি দেশের তৃতীয় শ্রেণির রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।
বিএনপির ছন্দপতন এবং রাজনৈতিক কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়ার জন্য দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দায়ী বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক। পরিচয় গোপন করার শর্তে তিনি বলেন, বিএনপি একটা সময়ে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল ছিল। কিন্তু দলটির চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার নির্বুদ্ধিতা, সিদ্ধান্তহীনতা, পরনির্ভরশীলতা, অশিক্ষা ও অতিরিক্ত বিদেশ নির্ভরতার কারণে বিএনপি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেয়া, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন, তারেক রহমানের অপরাধের বিষয়ে মুখে কুলুপ আটা, নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন, দেশের চেয়ে বেশি দল প্রীতি, দেশের মানুষের নার্ভ বুঝতে না পারার কারণে বেগম জিয়ার বিএনপি ব্যাক ফুটে চলে গিয়েছে। বেগম জিয়া কল্যাণমুখী রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার আমলে সুবিধাবাদীরা মাথা চাড়া দেয়। যার কারণে বাংলাদেশ তৎকালীন সময়ে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। সুতরাং বিএনপির যে অধঃপতন হয়েছে, তার জন্য কেবল বেগম জিয়াই দায়ী।
বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বেগম জিয়ার অল্প শিক্ষিত মানুষ। তাকে যে যেভাবে বুঝিয়েছে, তিনি সেভাবেই পরিচালিত হয়েছেন। অন্যের বুদ্ধি ধার করার জন্যই তার আজ এই পরিণতি হয়েছে। এছাড়া উনি যদি সময় মতো তারেক রহমানকে আটকাতে পারতেন তবে, আজকে বিএনপিকে এতটা দুর্নাম সইতে হতো না। বেগম জিয়া আসলে পুত্রের অপকর্মের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বাজেটে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে দাম কমবে অনেক

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন তিনি। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক এ বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে কৃষিখাতে প্রণোদনার জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার অপারেটেড সিডার, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, লোলিস্ট পাম্প, রোটারি টিলারের ওপর স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেওয়াসহ নারী উদ্যোক্তা পরিচালিত ব্যবসায় শো-রুমের ওপর মূসক অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমবে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বেজা) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস, যোগানদার ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সেবার উপর মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্মাণ সংস্থা, কনসালটেন্সি ও সুপারভাইজরি ফার্ম, যোগানদার ও আইন পরামর্শক সেবার উপর মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ক্ষেত্রে ফরোয়ার্ডার্স, ক্লিয়ারিং ও ফরোয়ার্ডিং সংস্থা, বিমা কোম্পানি, যোগানদার ও ব্যাংকিং সেবায়।
ক্যানসারের ওষুধের উপর রেয়াদি সুবিধা ছাড়াও স্বল্পমূল্যে অসুস্থ গরিব রোগীদের কাছে মেডিকেল গ্যাস সহজলভ্য করতে এসব পণ্যে আরোপিত রেগুলেটরি ডিউটি ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয় লিফট, রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসার, এয়ার কন্ডিশনার, মোটর, মোল্ড ও পাদুকা শিল্পকে সুরক্ষার জন্য এ খাতে উপকরণ আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত উপকরণ ও দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেলের শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমবে।

খালেদা বনাম তারেক: নেতৃত্ব দখলের দ্বন্দ্বে ধ্বংস হয়ে যাবে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির নেতৃত্ব থেকে খালেদা জিয়াকে সরাতে তারেক রহমানের হাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা। এ নিয়ে ১৩ জুন দলটির গুলশান কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয় সূত্র বলছে, মা-ছেলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দলের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব এখন প্রায় প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
জানা গেছে, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ঈদের পর ১৩ জুন বুধবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভূমিকা নিয়ে কথা হয় বৈঠকে। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠক চলাকালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সদ্য বাতিল হওয়া ছাত্রদলের কমিটির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমতি ছাড়া ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলে হঠাৎ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলে উঠেন- ‘ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তে আমরা কারাগারে ম্যাডাম জিয়ার অনুমতি নিয়েছি। এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপি নেতা ড. মঈন খানকে মিথ্যাবাদী বলে সম্বোধন করলে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন, ছাত্রদলকে নিয়ে এমনিতেই আমরা উভয় সংকটে আছি। আর ড. মঈন খানরা খালেদা জিয়ার কথা বলে মিথ্যাচার করছেন। বেগম জিয়ার নাম ভাঙিয়ে ছাত্রদল কমিটি বিলুপ্তির কথা বলে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছেন। ড. মঈন খান আর রিজভীর মতো নেতাদের- না আছে সাংগঠনিক শক্তি, না আছে দল চালানোর মতো বুদ্ধি। এরা বেগম জিয়ার নাম ভাঙিয়ে দলের ক্ষতি করছেন। আমি মনে করি, বেগম জিয়ার বয়স হয়েছে, এখন উনার অবসরের সময় এসেছে। তাই উনি নিজে থেকেই তারেক রহমানের হাতে দলের ভার দিয়ে বিশ্রামে যেতে চান। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বেগম জিয়ার সাথে আমাদের দূরত্ব সৃষ্টি করে রাখা হচ্ছে। আমাদের স্পষ্ট কথা- আমাদের নেতা তারেক রহমান আগামী দিনে দলের কর্ণধার। ম্যাডাম কারাগার থেকে বের হলে আমরা তাকে অবসরে বিশ্রামে পাঠানোর চিন্তা করছি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ছাত্রদলের কমিটি বেগম খালেদা জিয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা নিয়ে আমরা বিলুপ্ত করেছি। কারাগারে বেগম জিয়ার সাথে দেখা করার সময় তিনি এই অকর্মণ্য ছাত্রদলের কমিটির নেতাদের দল থেকে বের করে দিতে বলেছেন। আমরা তার নির্দেশে সেটাই করেছি। গয়েশ্বরের মতো নেতাদের এই কমিটি বিলুপ্তির ঘটনায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে তাই তাদের অন্তর জ্বলছে। খালেদা জিয়া আমাদের দলের চূড়ান্ত নেতা। তার নির্দেশনাই বিএনপির জন্য শেষ কথা। তারেক রহমানের জন্য দল ধ্বংস হতে পারে না।
এদিকে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের মূল সমস্যা হলো মা-ছেলের মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। দলের নেতৃত্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক গ্রুপ খালেদা জিয়ার পক্ষে, আরেক গ্রুপ তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণে। মূলত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব দখলের দ্বন্দ্বে একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে বিএনপি।

শিশুদের জন্য ৮০ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট

টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেট উত্থাপিত হয় বৃহস্পতিবার। আর প্রথমবারের মতো বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮০ হাজার ১৯০ কোটি টাকার পৃথক শিশু বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।

এ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা হলো ১৫টি। গত অর্থবছরের(২০১৮-১৯) চেয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ১৪ হাজার ৫শ’ ৪০ কোটি টাকা। পঞ্চম বারের মতো শিশুদের জন্য পৃথক বাজেট প্রণয়ন করছে সরকার।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশু কেন্দ্রিক বাজেট বৃদ্ধিতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিগত অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শিশু কেন্দ্রিক বাজেট প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। সেই সঙ্গে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের জাতীয় বাজেটের প্রবৃদ্ধির তুলনায় শিশু কেন্দ্রিক বাজেট প্রবৃদ্ধি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
আ  হ ম মোস্তফা কামাল  বলেন, গত  অর্থবছরের বাজেটের সাথে তুলনা করলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট বেড়েছে ১১.৮ শতাংশ। এখন শিশুবান্ধব বাজেটের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ হাজার ১৯০ কোটি টাকায়। প্রবৃদ্ধির হার  ২২.১৬ শতাংশ।
নির্বাচিত মন্ত্রণালয়গুলোর মোট বাজেটের অনুপাতে শিশু সংবেদনশীল বরাদ্দও আগের অর্থবছরের ৪৩.৫৬ শতাংশ হতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ৪৭.৫৯ শতাংশে বেড়েছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় জানান অর্থমন্ত্রী।
ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/এসআই