Sunday, June 16, 2019

পদ্মা সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৯ হাজার কোটি টাকা

সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা ১০টি মেগা প্রকল্পে প্রস্তাবিত বাজেটেও উল্লেখ্যযোগ্য হারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই ১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সাতটি মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়লেও তিনটিতে কিছুটা কমেছে। 
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার বাজেট বক্তৃতা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, এ বছর সরকারের ১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ২৪ হাজার ৭৯৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের বরাদ্দ অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের তুলনায় আসন্ন অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে।
নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের ১০ মেগা প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ্মা সেতুতে বরাদ্দ বাড়ছে ২ হাজার ৭১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।

এছাড়াও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ থাকছে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ২৯০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৩১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
মেট্রোরেল প্রকল্পে এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ হিসেবে ৭ হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এবারের বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। গত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৭০৫ কোটি টাকা। এই নির্মাণ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ ৩০৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয় ৫২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
তবে সরকারের মেগা প্রকল্প হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ কমেছে সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়ক টানেল নির্মাণ ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবিত বাজেটে।
এরমধ্যে সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৩৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১০১ কোটি টাকা।
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এই প্রকল্পে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এবং পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৫৭৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

বাজেটে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণে বরাদ্দ বেড়েছে

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পল্লী অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচনের অংশ হিসেবে ৬৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় এ প্রস্তাব করেন তিনি।
বর্তমানে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে পরিবার প্রতি ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা অতিদরিদ্র জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে ৫০শতাংশ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/এসআই

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি

বাজেটে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী মাসিক ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এ প্রস্তাব করেন।
দেশে ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধা প্রতি মাসে সম্মানী ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে পেয়ে থাকেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।ফলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ হাজার টাকা বাড়ছে।এ ছাড়া তাদের উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা এবং বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকছে।

Saturday, June 15, 2019

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বিবাদে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে যাননি মান্না!

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভ্যন্তরে সৃষ্ট অসঙ্গতি দূর করতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা সফল হয়নি। জানা গেছে, বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অনুপস্থিত বেশ কয়েকজন নেতার কারণে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মতভেদ ও বিবাদের জের ধরে কামাল ও মান্না বৈঠকে উপস্থিত হননি। তবে বৈঠকে অনুপস্থিত থাকাটা রাজনৈতিক কৌশলের অংশ কিনা, সেটি নিয়েও ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতিতে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
একটি সূত্র বলছে, ড. কামাল হোসেনের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের কারণে মাহমুদুর রহমান মান্না ত্যক্ত-বিরক্ত। সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী জোট গঠনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেন মান্না। সেসময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে একঘরে করতে আওয়ামী লীগ-বিরোধীদের এক প্লাটফর্মে আনার জন্য অন্যতম কুশীলবের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। নানা টানাপড়েন শেষে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন মান্না।
যদিও জামায়াতে ইসলামী ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দ্বিধা-বিভক্ত থাকলেও বিষয়টিকে কিছুটা আড়াল করে বিএনপির সাথে নির্বাচন এবং রাজপথমুখী আন্দোলনে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে বিএনপির নীতি-নির্ধারকেরা মান্নাকে কাজে লাগান। আওয়ামী লীগ বিরোধীদের এক মঞ্চে হাজির করতে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন মান্না।
এমন প্রেক্ষাপটে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতেও বিএনপিকে অবজ্ঞা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভুঁইফোড় নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়। সে সময় মনোনয়ন দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি সাথে ২০ দলীয় জোটের শীতলযুদ্ধ শুরু হয়। এত কিছুর পরেও মান্না নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করে সরকারবিরোধী আন্দোলন সোচ্চার রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেনের একগুঁয়েমি মনোভাবের কারণে আপাতত নিজ অবস্থানেই থাকতে চান তিনি। আর তাই ১০জুন অনুষ্ঠেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভায় যাননি মান্না।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মান্নার ঘনিষ্ঠ নাগরিক ঐক্যের একজন নেতা বলেন, মান্না ভাই প্রয়োজনে একা পথ চলবেন, তবু তিনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বের রাজনীতিতে থাকতে চান না। বিশেষ করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কর্মকাণ্ডে চরম বিরক্ত তিনি।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Tuesday, June 11, 2019

তারেক-ফখরুলের প্রশংসা, সন্দেহে জাফরুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জোটের দুর্দশায় বিএনপির হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের দায়ী করলেও এবার হঠাৎ ভোল পাল্টিয়েছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সৃষ্ট অসঙ্গতিতে স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের দায়ী করেছেন। এতে জাফরুল্লাহ চৌধুরী তারেক রহমানের আস্থাভাজন হওয়ার দৌড় শুরু করেছেন বলেও জোটে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিএনপির সমস্যার পেছনে তারেক রহমান দায়ী নয়, বরং দায়ী স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা। তিনি লন্ডন থেকে বারবার ঐক্যফ্রন্টের অগ্রগতি সম্পর্কে নানা পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে মির্জা ফখরুল সম্পর্কে জাফরুল্লাহ বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দলের রাজনীতির জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, আমি তো মনে করি মির্জা ফখরুল খুব ভালো করেছেন, দলের রাজনীতি ঠিক রেখেছেন। তিনি তো বিএনপিকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। নেতা হিসেবে তিনি ঠিক কাজটিই করেছেন।
তবে জাফরুল্লাহর বক্তব্যকে সমর্থন করছেন না ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের অনেকেই। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্ট কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, বিষয়টি ঐক্যফ্রন্টের বড় দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। পাঁচ মাস নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকলাম, সে নিষ্ক্রিয়তা ভাঙতে পারেনি বিএনপি। তারা কোন এক অদৃশ্য কারণে উদ্যোগ নিচ্ছে না। আর তা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কর্তৃত্বই নির্ধারিত হচ্ছে। সুতরাং জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এমন বক্তব্য অমূলক।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, কে কার মনোরঞ্জনে কথা বলছেন তা বোঝা বেশ মুশকিল হয়ে উঠেছে। এইসব চাটুকার দিয়ে রাজনীতি উদ্ধার করে জোটের গতি ফিরিয়ে আনতে হলে তা সহজ হবে না। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।
এদিকে ঐক্যফ্রন্টের দুর্দশায় তারেক-ফখরুলের দায় ও জাফরুল্লাহর বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সহমত প্রকাশ করছেন কিনা জানতে চাইলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

দেখতে সুন্দরী বলেই কি সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা?

একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আর এই মনোনয়নের পর থেকেই খোদ বিএনপিতে উঠেছে গুঞ্জন, দেখতে রূপবতী বলেই কি এতো হেভিওয়েট নারী প্রার্থীর ভিড়ে মনোনয়ন পেলেন রুমিন? রুমিন ফারহানার আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর জনমনেও আসছে ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন- জনগণের সবচাইতে কাছে থাকা নেতা উকিল আবদুস সাত্তারকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না দিয়ে, এলাকার মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকা রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন দেয়ার ভিত্তি কি? তাহলে কী সৌন্দর্যের কাছেই ধরাশায়ী হলেন বিএনপি'র নীতি নির্ধারনী মহল, এমন প্রশ্নও ভাসছে সোস্যাল মিডিয়াসহ রাজনীতি সচেতন বিভিন্ন মহলে।

জানা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি গত ৯ জুন রোববার দুপুরে শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। দুপুর ১২টায় রুমিনকে জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সহআন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। একাদশ সংসদে আনুপাতিক হারে বিএনপি একটি মাত্র সংরক্ষিত আসন পেয়েছে। সেই আসনে বিএনপি রুমিনকে মনোনয়ন দিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ( সরাইল উপজেলা ও আশুগঞ্জ উপজেলা) আসনের অধিকাংশ বিএনপি নেতারাও হতাশা প্রকাশ করেন এই বিষয়ে। ঘুরেফিরে  চায়ের আড্ডায় কিংবা দলীয় রাজনৈতিক আড্ডায় আসছে রুমিন ফারহানার এই অস্বাভাবিক উথানের গল্প। নেতাকর্মীরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি যেমন নমিনেশন পেপার নিয়ে জড়িয়েছে ব্যাবসায়, ঠিক তেমনি রুমিন ফারহানার মনোনয়ন এবং নারী আসনের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পেছনেও রয়েছে কোন স্বার্থ। অনেকেই মনে করছেন দেখতে সুন্দর বলেই রুমিনের প্রতি বিশেষ টান রয়েছে দলের নীতি নির্ধারকদের। দলের শীর্ষ নেতাদের মনোরঞ্জনের মাধ্যমেই মিলেছে রুমিনের সাংসদ হবার সুযোগ।

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসনে জয়লাভ করে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি সবাই শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন। এ ক্ষেত্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, দলটিকে একটি আসন বণ্টন করে দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

রোহিঙ্গা ইস্যু: বাংলাদেশ-বিরোধী অপপ্রচারে ব্যস্ত মিয়ানমার

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার সরকার। সম্প্রতি নতুন রূপ পেয়েছে দেশটির বাংলাদেশ-বিরোধী এই প্রোপাগান্ডা। চলতি বছরের ১৯ মে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ২৫তম ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ কিউ টিন্ত সোয়ে।
সরকারের পরোক্ষ মদদে দেশটির সেনাবাহিনীর অকথ্য নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে বিলম্বিত করতে এবং ১০ লক্ষাধিক বাস্তুচ্যূত মানুষদের বাংলাদেশের ঘাড়ে জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতেই মিথ্যাচার করছে মিয়ানমার। পাশাপাশি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অর্জিত সম্মান ভূলুণ্ঠিত করতে মিয়ানমার সরকার এমন অমূলক-যুক্তিহীন বক্তব্য দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের দায় এড়িয়ে বিশ্বের সামনে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।
সম্মেলনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা নিজ ইচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে গিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাবি করে, পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার (১ পুরুষ, ২ নারী, একজন তরুণী ও এক তরুণ) স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফিরে গিয়েছেন। অথচ এই দুটি দাবিই ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।
প্রকৃতপক্ষে, ২০০ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনও ঘটনাই ঘটেনি। ৫ জন ফিরে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে, তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বহুল পরিচিত এজেন্ট। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে- এমন প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবেই তাদের কৌশলে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে সাময়িক আশ্রয় নেয়ার মতো পরিবেশ না থাকায় ২০১৮ সালের ২৭ মে ৫৮ রোহিঙ্গা মুসলিম তাদের দেশে ফিরে গিয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে দেখা যায়, নিজেদের বাড়িঘর ও সম্পত্তির খোঁজ নিতে বাংলাদেশ থেকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দুই দফায় তারা রাখাইনে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের ৪ বছর কারাদণ্ড দেয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই ৫৮ জনসহ মোট ৬২ জনকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা প্রমাণ করতে নাগা খু ইয়া সেন্টারে নিয়ে তাদের মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদেরও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অত্যাচারের মুখে তাদের ১০ জন ফের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। যাদের ছয়জনের সাক্ষাৎকারও নেয় মানবাধিকার সংস্থাটি।
মিয়ানমার আরও দাবি করে, ২০১৮ সালের জুনে ১২ বাংলাদেশি ও ৯২ রোহিঙ্গাসহ ১০৪ জনকে বঙ্গোপসাগরের রাখাইন উপকূল থেকে আটক করা হয়। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, ওই ১০৪ জন মূলত মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের ট্রলার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাখাইন রাজ্যের রাথেডং শহরে যাত্রাবিরতি দেয়। ওই ১২ জনকে বাংলাদেশের কাছেও হস্তান্তর করা হয়। আর বাকি ৯২ রোহিঙ্গাকে নাগা খু ইয়া ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি অনুসারে, ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ২০ হিন্দু রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে গিয়েছে, যাদের রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসা অপহরণ করে বাংলাদেশের একটি শরণার্থী শিবিরে নিয়ে এসেছিল। সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সমর্থন পেতে ওই সব হিন্দু রোহিঙ্গাকে গোপনে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কোনও ধরণের যোগাযোগ করেনি। এ কাজে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করে কক্সবাজারের উখিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু নেতা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কালক্ষেপণ করতে এমন সব মিথ্যাচার করছে বলে জানা বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে।