Sunday, June 2, 2019

বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে ধানের বাম্পার ফলনে

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করার বিষয় আছে। কৃষি খাতে দেওয়া প্রণোদনা ও সরকারের বিশেষ নজর দেশের কৃষি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে উৎপাদন। এবারে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। পক্ষান্তরে আমদানিও হয়েছে অনেক। যা শক্তিশালী মজুদ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে। সংকট আর নেই। সংকটের আশঙ্কাও নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ ব্যবস্থা থাকায় কেউ সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে, বাজারে দাম উসকে দেওয়ার মতো ঘটনাও নেই।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়টি বরাবরই আলোচনায় থাকে। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ইদানীং এই আলোচনা বেশি। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। সেখানেও মধ্যস্বত্বভোগীদের কথা উঠেছে। আসলে মধ্যস্বত্বভোগী নেই কোথায়? আধুনিক বাজার ব্যবস্থায় এই সত্যকে অস্বীকার করার জো নেই। তাহলে কৃষকের রক্ষা কি হবে না? সম্ভবত, সে প্রশ্নেই চাল রপ্তানির বিষয়টি এসেছে। অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রপ্তানি করা হবে। পরোক্ষভাবে কৃষককে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় চলে এসেছে। চাল আমদানির ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ইতিমধ্যে ৫২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এই সময়ে আমদানি নিরুত্সাহিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে খাদ্য সংকটের বিরূপ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বন্যা, খরার কারণে উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ কম হয়েছে। তাতে বাজারে দাম চড়েছে কয়েকগুণ। ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ ভেঙে ফসলহানি ঘটেছে। তখনো আশঙ্কা ছিল বাজারে ধান চালের সংকট হতে পারে। ইতিহাসের পাতা থেকে তথ্য নিলে দেখা যাবে, এখানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খাদ্য চাহিদার সংকুলানে বিঘ্ন ঘটানো হয়েছিল। ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষও কৃত্রিম বা মনুষ্যসৃষ্ট ছিল বলে পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণায় দেখানো হয়েছে। বলা হয়, সরবরাহ অব্যবস্থাপনার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্যশস্য পৌঁছেনি তখন। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ঐ সময়ে দেশে খাদ্য ছিল। কিন্তু ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল না।
আরো পরে সংঘটিত বড় বড় বন্যার ধাক্কা সামাল দিতে বিদেশ থেকে খাদ্য সাহায্য নিয়েছিল বাংলাদেশ। আজকের বাংলাদেশে সেসব শুধুই ইতিহাস। দেশে খাবারের জন্য হাহাকার নেই। কৃষক যদি কিছুটা মূল্য কমও পেয়ে থাকে, তা বিকল্প ব্যবস্থায় পুষিয়ে নেওয়া যেতে পারে। কৃষকের ভর্তুকি ব্যবস্থাও এখানে চালু রয়েছে। সেচ, যান্ত্রিকীকরণ কিংবা অন্য উপায়েও প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু উৎপাদন বেশি না হলে, পর্যাপ্ত মজুদ যদি না থাকতো, তবে কি মূল্য ব্যবস্থায় ভারসাম্য রক্ষা করা যেত? দাম না হয় বেড়ে যেত, সবার চাহিদা যদি না মেটানো যেত— তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো? বরং ‘আমার অঢেল’ রয়েছে, তাতে খুশি থাকাই উত্তম। অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীর মতে, স্বাধীনতার পর ‘তলাবিহিন ঝুঁড়ি’র অপবাদ ঘুচিয়ে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯শ ৯ ডলারে। গড়ে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে দেশটি। অনেকের কাছেই তা আজ ‘মিরাকল’। এ কী বাংলাদেশিদের গর্বের বিষয় নয়

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দিবেন সরকার

আগামী বাজেটে প্রবাসীদের জন্য আসছে বিরাট সুখবর। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দিবে সরকার। প্রবাসীরা বছরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাবেন তার ওপর ২ শতাংশ হারে এ সুবিধা দেয়া হবে। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা থাকছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, বর্তমানে রফতানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যে একাধিক হারে প্রণোদনা দেয়া হয়। এর বাইরে প্রথমবারের মতো সেবাখাত হিসেবে প্রবাসী আয়ে একই সুবিধা দিবেন সরকার। যারা বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাবেন, শুধু তারাই সরকারের এ প্রণোদনা পাবেন।

মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে প্রবাসীদের এ সুবিধা দেয়া হবে। সরকার আশা করছে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি অর্থাৎ প্রবাসীদের জন্য এ সুবিধা কার্যকর হলে দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে।

বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলের সঙ্গে অবৈধ চ্যানেলে ডলারের দরে খুব একটা পার্থক্য না থাকা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপসহ নানা কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১ হাজার ১৮৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১১১ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

রাশিয়ান অর্থনৈতিক ব্লকে ঢুকছে বাংলাদেশ

রাশিয়ার ইকনোমিক কমিশনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুবিধা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি সুবিধার নিরিখে সমঝোতা চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চুক্তিটির নাম হচ্ছে ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন বিটুইন দ্য ইউরাশিয়ান ইকোনমিক কমিশন অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।’ রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ৩১ মে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকে ১৮টি খাতে পারস্পরিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বাণিজ্য সুবিধা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা, কৌশলগত নীতি, কাস্টমস নীতি ও প্রক্রিয়া, শাকসবজি রপ্তানির বাধা দূর করতে স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি নির্মূলে সহায়তা, আর্থিক বাজার, যোগাযোগ, জ্বালানি নীতি, কৃষি শিল্প প্রতিযোগিতামূলক নীতি, শিল্প, মেধাস্বত্ব, বাণিজ্য ও সেবা খাতে বিনিয়োগ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তা, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, শ্রম রপ্তানি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সমঝোতামূলক খাত।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম বলেন, এমওইউ করার জন্য ইউরাশিয়ান কমিশনের পক্ষ থেকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এই সমঝোতা স্মারকটি ইউরাশিয়ান কমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সম্ভাবনাময় নতুন খাতগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে যেসব বাধা আছে সেগুলো দূর করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া সহায়তা খাতে লেবার মাইগ্রেশন খাতটি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বাংলাদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে শ্রম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমওইউর খসড়ায় বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি মেনে সমতা, স্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর হবে। সূত্র জানায়, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী রাশিয়ান ফেডারেশনের নেতৃত্বাধীন ইকোনমিক কমিশন। কমিশনে রাশিয়া ছাড়াও অন্য সদস্য রাষ্ট্র হচ্ছে  বেলারুশ, কাজাখিস্তান, আরমেনিয়া এবং কিরগিজস্তান। বিগত সরকারের আমলে ওই কমিশন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তির প্রস্তাব দেয়। সরকারের নীতিনির্ধারকরা ইইউসির এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। জানা গেছে, বাংলাদেশকে বাণিজ্য সঙ্গী করার লক্ষ্যে এমওইউর খসড়া প্রণয়ন করে মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠায় ইইউসি। দূতাবাস থেকে প্রস্তাবিত খসড়াটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দিয়ে তা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠিয়ে দেন। ইআরডি এ ব্যাপারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার পর সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করতে খসড়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, রাশিয়ায় শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। বর্তমান বাস্তবতায় এখন এককভাবে দেশটিতে ওই সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। বরং রাশিয়াসহ পাঁচ দেশকে নিয়ে গঠিত ইউরাশিয়ান কমিশনের সঙ্গে এমওইউ করলে তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার জন্য সহায়ক হবে। এ কারণে ইইউসির বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এমওইউ করার প্রস্তাবে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। রাশিয়ার বাজারে তৈরি পোশাক ছাড়াও পাট, হিমায়িত চিংড়ি এবং আলু রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে ফাইটোস্যানিটারি সমস্যার কারণে বর্তমানে দেশটিতে আলু রপ্তানি বন্ধ আছে।

কারাগারে ফাতেমার পঞ্চম ঈদঃ ইফতার নিয়ে মিথ্যাচার বিএনপি

ফাতেমা বেগম। ৮ বছর আগে ফুফাতো ভাই বশির উল্ল্যার হাত ধরে ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার একদিন আগে থেকে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন ফাতেমা নামের ৩৫ বছর বয়সী এই মহিলা।
ফাতেমার দুই সন্তান। বড় মেয়ে রিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছেলে রিফাত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ফাতেমার বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা মালেকা বেগম ভোলা সদরের কাটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
৮ বছর আগে ফুফাতো ভাই বশির উল্ল্যার হাত ধরে ভোলা থেকে ঢাকায় আসেন ফাতেমা। ঢাকা এসেই গৃহকর্মী হিসেবে ফাতেমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন। ঢাকা আসার আগেই ফাতেমার স্বামী হারুন লাহড়ী মারা যান।
স্বামীহারা ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে এখন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ১০ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার সাথে বসবাস করছেন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির এভাবে কারাগারে থাকার এমন ঘটনাও নজিরবিহীন। কিন্তু খালেদার অপরাধের সাথে বিন্দু পরিমাণ সম্পর্ক না থাকার পরেও খালেদার সাথে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা বলে পরিচিত ফাতেমা বেগম।
আর এই নিয়ে ৫ম বারের মতো পরিবারকে দূরে রেখে বিনা অপরাধে একজন দাগী আসামীর সঙ্গে কারাগারে ঈদ করতে হচ্ছে ফাতেমাকে। তারও তো পরিবার আছে। তারও তো ইচ্ছে হয় নিজের স্বামী-সন্তানদের সাথে নিয়ে একসাথে ঈদ করতে। খালেদার আইনজীবী এবং বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতেই মূলত ফাতেমাকে খালেদার সাথে কারাভোগ করতে হচ্ছে। অবাক মনে হলেও সত্য পৃথিবীর ইতিহাসে খালেদা একমাত্র আসামি যিনি কারাদণ্ড ভোগ করা অবস্থায় বাইরে থেকে নিরপরাধ গৃহপরিচারিকা সাথে রাখার সুবিধা পেয়েছেন।
এদিকে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগ করে জানিয়েছেন কারাগারে বেগম জিয়াকে ভালো ইফতার দেওয়া হচ্ছে না। নিম্নমানের ৩০ টাকার ইফতারি সামগ্রী দিয়ে তাকে ইফতার করানো হচ্ছে। তবে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের পুরোটাই যে মিথ্যাচার সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তারা যে রমজান মাসে খেয়ে না খেয়ে রোজা রেখে মিথ্যা বলে তা দেশের মানুষ সবাই জানে। আর এই দলটার জন্মই হয়েছিলো মিথ্যার অথৈ সাগরে ভেসে। সম্প্রতি খালেদার শারীরিক অবস্থা সাংবাদিকদের জানাতে প্রেস ব্রিফিং করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক। সাংবাদিকদের তিনি জানান, খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে দেয়া সুষম ইফতার খাচ্ছেন না। তিনি তার সঙ্গে থাকা কাজের মেয়ে ফাতেমাকে দিয়ে পছন্দমত খাবার রান্না করে খাচ্ছেন। এতে করে খালেদা জিয়ার  স্বাস্থ্যহানী হবারও সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হাসপাতাল থেকে তার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ইফতার দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে তিনি সেই খাবার গ্রহণ না করে নিজের ইচ্ছেমত তার গৃহপরিচারিকা দিয়ে রান্না করিয়ে খাচ্ছেন। কিন্তু অন্যদিকে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার করেই যাচ্ছেন যে খালেদাকে ভালো ইফতার দেয়া হচ্ছে না। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী নিজের খাবার অবৈধভাবে তার সাথে থাকা গৃহপরিচারিকা দিয়ে রান্না করিয়ে নিজে খাচ্ছেন। কারাগারে কয়েদীরা সাধারণত এই সুবিধা পান না। সেইক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে এই সুবিধা আদালত যে দিয়েছেন সেজন্য বিএনপি নেতাদের আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ। কিন্তু তারা সেটা না করে রমজান মাসে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন।

বিদ্যুতচালিত ট্রেন চালু করবে সরকার

রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর পর বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালু হবে বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখনো ডিজেলচালিত ট্রেন চলছে। তবে মেট্রোরেলের মাধ্যমে দেশে প্রথম বিদ্যুতচালিত ট্রেনের ব্যবহার শুরু হবে। এরপর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুতচালিত ট্রেন চালুর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নত দেশগুলো এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশে তেলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেলচালিত ট্রেনে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেও তেলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। দূষণ থেকে বাঁচতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুতচালিত ট্রেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসময় হাহাকার ছিল উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসময় হাহাকার থাকলেও আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি। এছাড়া যেসব মেগা প্রকল্প এবং যেসমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মিত হচ্ছে, তাতে আমাদের বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না।
মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায় উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তাই মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার। কাজেই আরও বেশি কোচ আমাদের কিনতে হবে।

দেশের উন্নয়ন নিয়ে রমজান মাসেও মিথ্যাচারে লিপ্ত রিজভী!

নিউজ ডেস্ক : উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের আদর্শে পরিণত হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানি করারও পরিকল্পনা করছে সরকার। দেশের এমন উন্নয়নে হঠাৎ করে অভাব-অনটনের বক্তব্য দিয়ে রাজনীতিতে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ।
বিএনপি বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী দাবি করেছেন, অভাবের তাড়নায় মানুষ মারা যাচ্ছে। যদিও রিজভীর এমন বক্তব্যের যৌক্তিকতা ও সত্যতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশ আজকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নয়ন করছে। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্রসহ সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে দেশ।
বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, শিল্প-বাণিজ্যে প্রসার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্রের হার কমিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। অথচ আজকে বিরোধী দলের নেতা বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন অস্বীকার করে বিভ্রান্তি ও মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, রিজভী আহমেদ যা বলেছেন তা সত্য নয়। আজকের বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে মরে না। কারণ কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য ও উৎপাদন মুখী ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ নজরদারি ও প্রণোদনায় দেশের অর্থনীতি বিকশিত হচ্ছে। মানুষ কাজ পাচ্ছে, দ্রুত সেবা পাচ্ছে হাতের নাগালে। সুতরাং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই বাংলাদেশকে দরিদ্র বাংলাদেশ বানানোর অপচেষ্টাকে স্রেফ দেশদ্রোহিতা বলব আমি। রমজান মাসেও মিথ্যাচার বন্ধ করতে না পারাটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
অভাবের কারণে দেশের কোন স্থানে মানুষ না খেয়ে মারা গেছে, এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে রিজভী আহমেদকে ফোন করলে এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি রিজভী আহমেদ। তবে দেশ পিছিয়ে গেছে, এটাই মনে করেন তিনি। দেশের দৃশ্যমান উন্নয়নে যখন বিদেশিরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ তখন, কোন গবেষণার ভিত্তিতে দেশকে দরিদ্র হিসেবে দাবি করছেন, এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, বিএনপির চোখে যা পড়েছে, তাই বলা হয়েছে। সব কিছুর এত ব্যাখ্যা দিতে পারব না বলেই ফোন কেটে দেন রিজভী।

মওদুদ নয়, অর্ধেক বিএনপি চলছে হাসনা মওদুদের ইশারায়!

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকার মেয়াদ দেড় বছর হতে চললেও তাকে জামিনে মুক্ত করার ব্যাপারে কোনো কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারেনি বিএনপি।
যদিও বিএনপির একাংশ এর জন্য মওদুদ আহমেদকে দায়ী কলেও অন্যপক্ষ বলছেন, কর্ম দোষেই কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।
প্রকৃতপক্ষে বিএনপির যে পক্ষ বলছে খালেদা জিয়া কর্ম দোষে কারাগারে আছেন, তারা মূলত মওদুদপন্থী নেতা বলে জানা গেছে।
দলটির একটি সূত্র বলছে, বিএনপির মওদুদপন্থী নেতারা এতোই স্ট্রং যে, খালেদাপন্থী নেতারা যুক্তি-তর্ক এবং অর্থে টিকতে পারছে না তাদের সামনে।
এ প্রসঙ্গে কথা হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি একটা গণতান্ত্রিক শক্তির দল হলেও এর মধ্যে একাধিক মত বিদ্যমান। এক পক্ষ মির্জা ফখরুলকে সমর্থন করলেও অন্যপক্ষ সমর্থন করে ব্যারিস্টার মওদুদকে। আবার মির্জা ফখরুলকে যারা পছন্দ করেন, তারা রুহুল কবির রিজভীর নির্দেশ মানতে চান না। কারণ দলে জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে মওদুদ আহমেদ এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া তার মন্ত্রিত্ব করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও অনেকে মনে করে মওদুদের রাজনীতির মারপ্যাঁচ হয়তো হাসনা আহমেদ নির্ধারণ করে থাকেন।
হাসনা মওদুদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হাসনা মওদুদ অত্যন্ত জ্ঞানী মানুষ। তার আন্তর্জাতিক লবিং অনেক স্ট্রং। একারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আমরা তার পরামর্শ নেই। এটা দোষের কিছু নয়, বিএনপি বাঁচাতে যে কেউই সিদ্ধান্ত দিলে, আমরা তা গ্রহণ করি।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং-লবিংয়ের কারণে বিএনপি রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। দলটির কেউ তারেক-রিজভীপন্থী, কেউ আবার মওদুদ-ফখরুলপন্থী। যার কারণে দীর্ঘ সময় পেয়েও গুছিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দল হিসেবে মানতে তাদের আপত্তি নেই বলেও জানা গেছে।