Saturday, February 9, 2019

লামায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৫ জন আহত

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বান্দরবানের লামা উপজেলায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৫জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন- মো. নুরুল আলম (৩৪), তার স্ত্রী তসলিমা বেগম (৩০), বোন তৈয়বা বেগম (২৭), আবুল কাশেম (৫০)। স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা ও কাছাকাছি চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
সূত্র জানায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত আমির হামজার ছেলে নুরুল আলম ও আবুল কাশেমের মধ্যে ২০শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মিমাংশার লক্ষে শুক্রবার বিকালে সামাজিকভাবে বৈঠক বসারও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আবুল কাশেম সিদ্ধান্ত অমান্য করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ২০-২৫জন ভাড়া করা লোকজন নিয়ে শুক্রবার সকালে বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলতে যান। এ সময় নুরুল আলমগং বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই নারীসহ উভয় পক্ষের ৫জন আহত হন। জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. লেয়াকত আলী বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

রোয়াংছড়িতে কমিউনিটি পুলিশিং ওপেন হাউজ ডে

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থানার উদ্যোগে আয়োজিত থানা প্রাঙ্গনে কমিউনিটি পুলিশিং ওপেন হাউজ ডে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বিকালে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যবামং মারমা। 
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চাইনিং, সমাজ সেবক চহাইমং মারমা, উপজেলা একাডেমিক মাধ্যমিক সুপার ভাইজার মো: নূরনবী।
এসময় প্রধান অতিথি রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যবামং মারমা বলেন, এলাকার মাদক সেবন, বাল্য বিবাহ ও আইনশৃংখলা অবনতি হলে তক্ষনাৎ ইউপি চেয়ারম্যান বা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শে দেন তিনি।

Friday, February 1, 2019

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী রোয়াংছড়ি প্রথম সফর

ev›`ievb ‡ivqvsQwo Dc‡Rjv‡Z cve©Z¨ weqlK gš¿Yvj‡qi c~Y© gš¿x exi evnv`yi D‰kwms Ggwc cÖ_g mdi K‡i‡Qb c‡njv †deªæqvix 2019 ZvwiL †ivR ïµevi| GKv`k RvZxq msm` wbev©P‡b wecyj †fv‡Ui Rqjvf K‡i bZzb miKvi MVb Kivi ci cve©Z¨ welqK gš¿Yvj‡qi `vwqZ¡ cvb | wZwb weMZ ev›`ievb 300bs Avmb †_‡K cvuP evi wbev©wPZ n‡q cÖwZgš¿x ØvwqZ¡iZ †_‡K GKv`k RvZxq msm` wbev©P‡b 6ô ev‡ii gZ wecyj †fvU Rq jvf K‡i cve©Z¨ welqK gš¿Yvj‡qi c~Y© gš¿x wn‡m‡e `vwqZ¡ cvb| cÖ_g miKvwi mdi Gm †ivqvsQwo †RZeb †eŠ× wenv‡i cvwievwiK fv‡e agx©q †KŠkj Kg© m¤úv`bmn miKvwi Kg©m~Px cwi`k©b I `jxq Kg©m~Px‡Z AskMÖnb K‡i ‡ivqvsQwo nB‡Z iægv †ivW wfwË cÖ¯Íi 48 †KvwU UvKv e¨‡qi ¯’vcb Kivi ci RbM‡Yi mv‡_ gZwewbg‡qi e‡j‡Qb eZ©gvb miKv‡i w`K wb‡`©kbv Abyhvqx Dbœqb Kiv n‡e e‡j Rvbvb |

লামায় টোব্যাকো কোম্পানীর অগ্রীম ঋণের লোভে ৯০ভাগ জমিতে বিষবৃক্ষ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার একর ফসলি জমিতে বিষবৃক্ষ তামাকের চাষ হয়েছে। গত তিন যুগ ধরে একটানা উপজেলার ফসলি জমিতে এ তামাক চাষের ভয়াল বিস্তারে সহযোগিতা করছে বেশ কয়েকটি টোব্যাকো কোম্পানী। এ কারণে বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে স্থানীয় কৃষকেরা। বর্তমানে উপজেলায় চাষাবাদের দুইটি মৌসুমে পরিণত হয়েছে। একটি ধানের, অপরটি তামাকের। ফসলি জমিতে অব্যাহত তামাক চাষের ফলে প্রতি বছর বোরো ও রবি শস্যের উৎপাদন যেমন মারাতœকভাবে ব্যাহত হচ্ছে; তেমনি মাটির উর্বরাশক্তিও দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি এ চাষে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা জটিল রোগে আক্রান্তসহ ব্যবহৃত কীটনাশক খাল বিল নদী ও পুকুরের পানির সাথে মিশে মাছের প্রজনন মারাতœক ভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গোটা বিশ্বের সঙ্গে দেশবাসী যখন সরব, তখন গাছগাছালির সবুজ বনায়নের বদলে উপজেলায় তামাক চাষের প্রসার নিয়ে সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। এখনিই পরিবেশ বিধ্বংসী তামাক চাষ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না হলে আবাদি জমির উর্বরতা হ্রাস পেয়ে অচিরেই উপজেলায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা যায়, মাতামুহুরী নদীর পলি বাহিত উর্বর এলাকা এবং জ্বালানি কাঠের সহজলভ্যতার কারণে দেশের প্রধান প্রধান তামাক কোম্পানিগুলো ১৯৮৪ সাল থেকে লামায় তামাক চাষ শুরু করে। উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের মেউলার চর এলাকায় সর্বপ্রথম ১০ একর জমিতে তামাক চাষ করা হয়। এরপর থেকে গত ৩৫ বছরে ক্ষতিকর তামাক চাষের ভয়াল বিস্তার ঘটেছে লামা পৌরসভা এলাকাসহ ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের বোরো ও রবি মৌসুমের ফসলি জমিতে। বর্তমানে ৯০ভাগ জমি তামাক  চাষের দখলে। কৃষি বিভাগ সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে তামাক কোম্পানিগুলো প্রায় ২ হাজার একর জমিতে তামাক চাষ করেছে। বেসরকারি হিসাব মতে এর পরিমাণ ৩গুণ বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তামাক কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক সুবিধা হাসিলের জন্য কৌশলগত কারণে কখনো তাদের রেজিস্ট্রেশনকৃত তামাক চাষির সংখ্যা ও জমির পরিমাণের প্রকৃত তথ্য দেন না। তবে বিভিন্ন সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন তামাক কোম্পানির আওতায় প্রায় ৬ হাজার একর ফসলি জমিতে ক্ষতিকর তামাক চাষ হয়েছে উপজেলায়। ব্রিটিশ আমলের নীলকর জমিদারদের মতোই উপজেলায় এ বিষের আবাদ করার জন্য আস্তানা করেছে ঢাকা, আবুল খায়ের, আকিজ ও বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি। আবার এ চাষে নারী ও শিশুদেরকেও খাটানো হচ্ছে অহরহ। এতে করে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।
স্থানীয়রা জানান, মৌসুম এলেই তামাক কোম্পানিগুলো কৃষকদের বীজ, সার, কীটনাশক, পাওয়ার টিলার, পাওয়ার পাম্প, নগদ ঋণ, সর্বোপরি বাজারজাতকরণের সুবিধা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে কৃষকরা লোভের বশবর্তী হয়ে ফসলি জমিতে বোরো ও রবি শস্যের আবাদ না করে ক্ষতিকর তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন। চাষিদের সুবিধার জন্য কোম্পানিগুলো উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন বড় বড় ক্রয় কেন্দ্র ও গোডাউন। যেখানে চলে যায় কৃষকদের উৎপাদিত তামাক। এদিক থেকে পিছিয়ে পড়ছেন সরকারের কৃষি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ফসলি জমি, মাতামুহুরী নদীর চর ও কোল ঘেষে, দুপাড়, থানা ও বন বিভাগের জমিতেও ব্যাপকহারে তামাক চাষ করা হয়েছে। উপজেলার আবাদি ফসলি জমিতে ব্যাপক হারে তামাক চাষের কারণে চলতি মৌসুমে বোরো ও রবি শস্য উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৫ হাজার ২৩ হেক্টর। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো এবং ৫৯০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭৮০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। যদিও বিগত বেশ কয়েক বছর উপজেলার বোরো ও রবি শস্য উৎপাদন শুধু কৃষি বিভাগের কাগজে কলমে অর্জিত হয়ে থাকে।
জানা গেছে, উপজেলার ৩০টি বøকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠ পর্যায়ের এসকল কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের সখ্যতা না থাকা, মাঠ পর্যায়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন না করা, সর্বোপরি তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো কৃষকদের সামনে তুলে ধরার ব্যর্থতার কারণে এলাকার কৃষকেরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বাজারজাত করার নিশ্চিত সুবিধা ও তামাক চাষে কম্পানিগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার কারণে স্থানীয় কৃষকেরা বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফসলি জমিতে ব্যাপক হারে তামাক চাষের ফলে এলাকায় বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। তিন দশক পূর্বে এলাকার পলিমাখা উর্বর জমিতে ফসল উৎপাদনে বৈচিত্র্য ছিল। বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন করে চলত এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা। বোরো ও রবি মৌসুমে একদিকে সোনালি ধানে মাঠ ভরে উঠত। অন্যদিকে, উৎপাদন হত গোল আলু, বেগুন, টমেটো, মরিচ, ফেলন, সিম, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, ক্ষিরা, সরিষা, পেঁয়াজ, বরবটি, কপি, মুগডাল ও মাসকলাইসহ বৈচিত্র্যময় নানান ফসল। এখন আর এ সকল ফসল উৎপাদন হয় না। মাঠজুড়ে শুধু তামাক আর তামাক। তামাকের আগ্রাসনের পূর্বে প্রতি কৃষকের ঘরে ধানের সাথে পুরো বছরের জন্য অন্যান্য খাদ্য ফসল মজুত থাকত। এর মধ্যে শুকনো মরিচ, আলু, রসুন, সরিষা, ডাল, সিম বিচি, পেঁয়াজ আদা, হলুদ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে সবকিছুই চট্টগ্রাম ও চকরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রয় করে স্থানীয় বাজারে বাজারজাত করতে হচ্ছে।
পৌরসভার কলিঙ্গাবিল এলাকার তামাক চাষী মো. ইলিয়াছ জানায়, চলতি মৌসুমে তিনি পাঁচ কানি জমিতে তামাক চাষ করেছেন তিনি। তামাক চাষে কষ্ট ও পুঁজি বেশি হলেও লাভ বেশি। বাজারজাতকরণের নিশ্চয়তা আছে। বিক্রিলব্দ সমুদয় টাকা এক সাথে পাওয়া যায়। ছাগলখাইয়া এলাকার কৃষক, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. শাহজাহান বলেন, এ বছর আমি দুই একর জমিতে তামাক চাষ করেছি। বীজ, সার, কীটনাশক, পাওয়ার টিলার, পাওয়ার পাম্প, নগদ ঋণ প্রদান কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণপ্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদানসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা তামাক কম্পানিগুলো কৃষকদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে করে থাকে। সর্বোপরি উৎপাদিত তামাক কম্পানিগুলো ক্রয় করার নিশ্চয়তা দেয়। এসব কারণে কৃষকেরা চলতি মৌসুমে তামাক চাষ করেন। আবার তামাক প্রক্রিয়াজাত করার সময় লক্ষ লক্ষ টন বনের গাছ পোড়াতে হয়।
লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর তামাকের চাষ কিছুটা কম হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কিছু কিছু তামাক চাষী এখন সবজি চাষ ও ভুট্টা চাষও করেছেন। তামাক চাষে কৃষকদের অতি উৎসাহের কারণ এবং এর প্রতিকার চিহ্নিত করণের লক্ষ্যে শিগগিরই একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। তামাকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে নিয়োজিত বেসরকারী সংস্থা উবিনীগ’র কক্সবাজারের আঞ্চলিক সমন্বয়ক রফিকুল হক টিটো বলেন, তামাক চাষের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে খাদ্য ফসলের আবাদি জমি। কারণ তামাক চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির অনুজীব নষ্ট হচ্ছে এবং জমি হারাচ্ছে উর্বরতা শক্তি। ফলে ওই জমিতে শত চেষ্টা করলেও অন্য কোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছেনা। তামাক গাছ থেকে নিসৃত বিষাক্ত রস নদী খাল বিল ও পুকুরের পানিতে মিশে মাছের প্রজনন হ্রাস পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এ চাষে সংশ্লিষ্ট কৃষকরাও আক্রান্ত নানান রোগে। লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিউর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, তামাক শোধনের সময় নির্গত নিকোটিনের কারণে এলাকার লোকজন হাঁপানি, কাশি এবং ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বান্দরবানে পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

“পুলিশকে সহায়তা করুণ, পুলিশের সেবা গ্রহণ করুণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বান্দরবানে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বান্দরবান সদর থানার আয়োজনে সদর থানার প্রাঙ্গনে এই ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: কামরুজ্জামান।
এসময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: ইয়াছির আরাফাত, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো: জামাল উদ্দিন চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অমল কান্তি দাশ, ৩নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশ, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জোহরা চৌধুরী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি তদন্ত) মো: এনামুল হক ভ‚ইয়া, পৌর মহিলা কাউন্সিলর সালেহা বেগম সহ বান্দরবান পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর, পুলিশের বিভিন্ন পদ মর্যাদার কর্মকর্তা ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
সভায় বক্তারা, পুলিশের বিভিন্ন সেবার পাশাপাশি জনগণের দু:খ লাঘবের জন্য পুলিশের বিভিন্ন সেবাগুলোকে আরো সহজতর করার আহবান জানান এবং দ্রæততম সময়ে মামলা নিস্পক্তি করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কামরুজ্জামান বলেন, বর্তমান সময়ে পুলিশ প্রশাসন আগের চেয়ে অনেকটাই উন্নত সেবা প্রদান করছে, আর বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে প্রান্তিক জনগণ। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে পুলিশের অসংখ্য সদস্য।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কামরুজ্জামান আরো বলেন, যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে আমাদের সকলের সচেতন হতে হবে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যর প্রতি লক্ষ্য রাখা পরিবার প্রধানের কাজ। নিজ সন্তান কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কি খাচ্ছে এইসব তদারকি করা আর সু শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য প্রতিটি পরিবার প্রধানকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।
 

প্রেমে পড়েছেন, বুঝবেন কিভাবে?

অনেক সময় এমন হয় যে কাউকে ভালোবেসে ফেলেছেন নাকি শুধুই বন্ধুত্বের টান বা পছন্দ, সেটা নিয়ে দ্বিধার সৃষ্টি হয়। নিজের মনে এই দ্বিধার কারণে সেই মানুষটিকে ভালোবাসার কথা জানাতেও সাহস হয়ে ওঠে না। অনেক সময় পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোনো ছেলে বা মেয়েকে দেখে প্রথম দর্শনেই ভালোবেসে ফেলা যায়। যাকে বলে প্রথম দেখায় প্রেম। আবার অনেক দিনের চেনা জানা বন্ধুর প্রতিও হঠাৎ ভালোবাসার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। একজনকে ভালো লাগার পর নিজের মনে শুধুই প্রশ্ন জাগে, এই অনুভূতি কি শুধুই ভালো লাগা, নাকি ভালোবাসা। 
 
কিভাবে বুঝবেন আপনি প্রেমে পড়েছেন-

১. ‘বাটারফ্লাইস ইন স্টোমাক’ : প্রেমে পড়লে ছেলে-মেয়ে সবারই শরীরের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। যাকে ভালোবেসে ফেলেছেন তাকে দেখলে পেটে ও বুকের ভেতর এক অদ্ভুত চাপ অনুভূত হয়। তার সাথে কথা বলার সময় কিংবা তাকে ফোন করার আগে প্রচণ্ড আবেগের একটি অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এই অনুভূতিকেই ইংরেজিতে বলা হয় ‘বাটারফ্লাইস ইন স্টোমাক’ বা পাকস্থলীতে প্রজাপতি। এই অনুভূতির কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, নার্ভাস হয়ে যাওয়ার কারণে শরীর থেকে একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই হরমোনের কারণে পাকস্থলীর এই অনুভূতি সৃষ্টি হয়। 

২. হঠাৎ আনন্দের অনুভূতি: প্রেমে পড়লে মনের স্থিরতা থাকে না। হঠাৎ করেই মন ভালো হয়ে যায় এই সময়ে। বাঁধভাঙ্গা সেই হাসির অনুভূতিতে আপনি হয়তো নিজেও জানবেন না আপনি আনমনে হাসছেন। প্রিয় মানুষটির কথা মনে পড়লেই নিজের অজান্তেই আপনার মুখে হাসি ফুটে উঠবে। এই সময়ে নিজের ভেতরে একটি অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তখন আপনার কাছে সবকিছুই ভালো লাগবে। 

৩. সহজেই মন খারাপ: প্রেমে পড়লে  হঠাৎ করেই মন ভালো হওয়ার মতোই সহজেই মন খারাপ হয়ে যায়। পছন্দের মানুষটি ফোন না ধরলে কিংবা তার সাথে দেখা না হলে মনের ভেতর খারাপ লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। একটুখানি দূরত্বকেই তখন অবহেলা মনে হতে থাকে। 

৪. সারাক্ষণ একজনকে নিয়েই ভাবা: কিছুটা দিবাস্বপ্ন দেখার মতোই পরিস্থিতি হয় প্রেমে পড়লে, চিন্তা ভাবনা সারাক্ষণ একজনকে ঘিরেই ঘুরপাক খায়। যাকে পছন্দ, আপনার মন কিছুতেই যেন তার কথা ভুলতে পারে না। 

৫. শারীরিক আকর্ষণ অনুভব করা: যার প্রেমে পরেছেন তার প্রতি স্বাভাবিক ভাবেই শারীরিক আকর্ষণ বোধ করবেন আপনি। আর এ কারণেই তার সান্নিধ্য উপভোগ করবেন। তার পাশে বসা, হাতের একটু খানি ছোঁয়া কিংবা সামান্য ধাক্কাতেও শিহরিত হয়ে ওঠাই তখন স্বাভাবিক।

৬. হারিয়ে ফেলার ভয়: প্রেমে পড়লে প্রতিমুহূর্তে আপনার প্রিয় ব্যক্তিটিকে হারিয়ে ফেলার ভয় পাবেন। সর্বক্ষণ আপনার মনে এই সংশয় ঘুরপাক খাবে। আপনি এমন কিছু করবেন না বা চাইবেন না মানুষটি এমন কিছু করুক, যাতে আপনি তাকে হারিয়ে ফেলেন। এই হারানোর ভয় যদি আপনার মধ্যে থাকে, তাহলে সত্যি সত্যি আপনি প্রেমে পড়েছেন।

৭. মনের কথা একজনকেই বলতে ইচ্ছা হয়: এ কথা সত্য যে, সব কথা সবাইকে বলা যায় না। কিন্তু কেউ কি আছে, যার সঙ্গে আপনি নির্দ্বিধায় সব কথা বলতে পারছেন। আপনি দেখবেন, কোনো প্রকার জড়তা ছাড়াই কোনো একজনের সঙ্গে গোপন বা মনে লুকানো কথাগুলো বলতে পারছেন। আপনি আপনার কাজে তার সাহায্য আশা করবেন আর চাইবেন এই মুহূর্তে আপনার করণীয় কী হতে পারে, তা-ও বলে দেবে আপনার প্রিয় এই মানুষটি।

এ লক্ষণগুলোর সাথে যদি আপনার মিলে যায় তাহলে আর কিছুই নয়, প্রেমে পড়েছেন আপনি। ধীরে সুস্থে ভালবাসার মানুষটিকে জানান মনের কথা। তবে প্রেমে পড়ার শুরুর দিকে একটা দোটনা থাকা খুবই সাধারণ ও স্বাভাবিক একটি বিষয়। মনের মধ্যে বারবার একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, আমি যাকে ভালোবাসি সেও কি আমাকে ভালোবাসে? 

এবার তাহলে জেনে নিন সে-ও আপনাকে ভালবাসে কি না-

১. আপনার শত্রু মানে তারও শত্রু। যখন দেখবেন কোনো কারণ ছাড়াই আপনার পছন্দের মানুষটি আপনার শত্রুকে নিজেরও শত্রু ভাবতে শুরু করেছে, শুধু আপনি তাকে পছন্দ করেন না বলে সেও তাকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে, তখন বুঝবেন সে-ও আপনার প্রেমে পড়েছে।

২. খুব সাধারণ বিষয়েও সে আপনার প্রতি তার আবেগ প্রকাশ করবে, যাতে আপনি বুঝতে পারেন আপনার প্রতি সে কতটা দুর্বল।

৩. আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ার কোনো সুযোগই সে হাতছাড়া করতে চায় না। যত ঝামেলাই থাকুক না কেন ঠিক সে কোনো না কোনো উপায় খুঁজে বের করে। 

৪. যেকোনো সমস্যার কথা সবার আগে আপনাকে বলার চেষ্টা করে। হয়তো আপনি কোনো সমাধানই দিতে পারেন না, তবুও সে আপনাকে বলে শান্তি পায়।

৫. কেমন জীবনসঙ্গী চায় সেই বিষয়গুলো যদি বারবারই আপনাকে বলে এবং আপনার কাছ থেকে কোনো উত্তর আশা করে, তাহলে বুঝবেন সে আপনাকে বোঝাতে চাচ্ছে যে, তার আপনার মতোই সঙ্গী প্রয়োজন।

৬. আপনি অনেক আনন্দে থাকলেও সে বুঝতে পারে, আবার খুব কষ্টে থাকলেও সে বুঝতে পারে। আপনার সব আচরণ সে যখন আয়ত্ব করে ফেলছে, আর আপনিও তার কাছে কিছু লুকিয়ে রাখতে পারছেন না, বুঝবেন সে প্রেমে পড়েছে। 

৭. সে আপনার সম্বন্ধে সবই জানে। আপনার কী ভালো লাগে, কী অপছন্দ, কোন খাবার পছন্দ, কিসে বিরক্ত হন সবই সে জানে। এটাই তার প্রেমে পড়ার অনেক বড় একটা লক্ষণ। 

৮. তার কাছে আপনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো বিষয় নেই। আপনি যখন কথা বলতে আসেন তখন আপনার কথাকে বেশ মূল্যায়ন দিয়েই সে শোনে। 

৯. ভালোলাগার মানুষটিকে অকারণে ফোন করতে ইচ্ছা করে। আর যদি দেখেন আপনার পছন্দের মানুষটি আপনাকে অকারণেই ফোন করে তাহলে বুঝবেন সে আপনার প্রতিই আকর্ষিত হচ্ছে।

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে এক চোলাই মদ ব্যবসায়ী আটক

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাজার এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোলাই মদ সহ পলাশ তঞ্চঙ্গ্যা (৪৮) নামে একজনকে আটক করেছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে রোয়াংছড়ি পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
এতে রোয়াংছড়ি বাজার পাড়া বাসিন্দা মৃত বন মোহন তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে পলাশ তঞ্চঙ্গ্যা বাড়িতে বাংলা বা চোলাই মদসহ মদের তৈরি সরঞ্জামদি দেখতে পেয়ে আটক করেছে পুলিশ।
রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে ৮টার দিকে বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে চোলাই মদ সরঞ্জামদি সহ পলাশ তঞ্চঙ্গ্যাকে আটক করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হবে।