Tuesday, December 18, 2018

‘রা’ নেই সুশীলদের

জনসাধারণ বলেন, ‘তারা হঠাৎ সরব হন, আবার হঠাৎ চুপসে যান’। বিশেষ বিশেষ মৌসুমে তারা নড়েন-চড়েন, বিশেষ কিছু স্থানে দৌড়ঝাপও করেন। আমজনতার মতে, তাদের মতিগতিও বোঝা ভার’। তারা ‘সুশীল’ নামে পরিচিত।
যদিওবা সুশীল শব্দের আক্ষরিক অর্থ নাপিত। তবে এই বঙ্গদেশের অতি পণ্ডিতদের কাছে এসে শব্দটির অর্থই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এই অতি পণ্ডিতেরা নিজেদেরকেই ‘সুশীল’ হিসেবে হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
দুনিয়ার হেন কোনো বিষয় নেই যা এদেশের সুশীলরা জানেন না! অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, ভূগোল, রসায়ন, মনোবিজ্ঞানসহ সব বিষয়েই তাদের তুমুল পাণ্ডিত্য। অন্তত তারা এমনটাই ভাবেন। এসব বিষয়ে তাদের আগ্রহও ব্যাপক। তবে এদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেশের রাজনীতি অঙ্গন নিয়ে। কেননা এখানে  বিশেষ মিশন বাস্তবায়নে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল বেশ ভক্তি ভরে তাদের পকেটে অর্থ সরবরাহ করেন।
কিন্তু তারা তাদের পান্ডিত্য সবসময় দেখান না। বিশেষ দেশ ও বিশেষ মহলের ইশারায়, সুস্পষ্ট নির্দেশেই তারা মাঠে নামেন। আরও স্পষ্ট করে বললে পাকিস্তান, বিএনপি-জামায়াতের মিশন বাস্তবায়নই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
দেশে নির্বাচন এলেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা শুরু হয় তাদের। নেমেছিলেন এবারও।
এবার বেশ আগেভাগেই মাঠে নামেন এসব ‘স্বঘোষিত সুশীলেরা’। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই বিএনপি-জামায়াতের সাথে সুর মিলিয়ে উদ্ভট সব দাবি-দাওয়া পেশ করতে থাকেন তারা। উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগ সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো উপায়ে বিতর্কিত করা।
তাদের পাতা সেই ফাঁদে পা দেননি শেখ হাসিনা। সংলাপে আসা বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টের সকল অন্যায় আবদারকে সংবিধান ও যুক্তি দিয়ে তাদের অয়ৌক্তিক দাবিগুলো মোকাবেলা করেছেন। বজায় রেখেছেন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা।
বরং ডিজিটাল বাংলাদেশের যোগ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একের পর এক বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নে ধরাশয়ী হয়েছেন ষড়যন্ত্রকারীরা।
সংবিধান অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। অথচ এ প্রতিষ্ঠানটিকেও যেকোনো উপায়ে বিতর্কিত করতে চেয়েছিলো দেশবিরোধী অপশক্তিটি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ সফলতার সাথে পালন করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সুনিশ্চিত করে। ফলে চুপসে যায় বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট। বিতর্ক তৈরির মতো কোনো ইস্যু না পেয়ে তারা এখন ভুগছে হতাশায়।
বড় বিপাকে পড়েছেন তথাকথিত সুশীলেরাও।  পাকিস্তান, বিএনপি-জামায়াত থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করেও মিশন বাস্তবায়ন করতে না পারার ব্যর্থতায় তারা এখন মুখ লুকোতে ব্যস্ত। কোথাও নেই তাদের বক্তৃতা,বিবৃতি কিংবা গালফুলোনো বুলি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আপাতত আর তৎপরতা দেখা যাবে না এসব জ্ঞানপাপীদের। তবে আবারও সুযোগ নেয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেই তারা যে মাঠে নামবেন, তা হলফ করেই বলা চলে।

মনোনয়ন নাকি সম্পদহরণ!

ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া সাকা চৌধুরী কিংবা বিএনপির লেডি গুণ্ডা খ্যাত পাপিয়া বহু আগেই মুখ খুলেছিলেন। সাকা তো তারেকের সন্ত্রাস ও দুর্নীতিপ্রবণ চরিত্রের জন্য ‘কুকুরতত্ব’ দিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটান। এ নিয়ে দলের ভেতরে বাঁধে তুলকালাম কাণ্ড। তারেকের সন্ত্রাসী বাহিনী সাকাকে নাজেহালও করে।
লেডি গুণ্ডা পাপিয়া এক ফোনালাপে তারেককে অশিক্ষিত, রুচিহীন আখ্যা দেন। যা ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর জের দিতে হয়েছে পাপিয়াকেও। অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও প্রকাশ্যে অথবা অফ দ্যা রেকর্ডে তারেকের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বারবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শৈশব থেকেই অকালপক্ব হিসেবে পরিচিত তারেক ভেতরে সকল খারাপ অভ্যাসের উপস্থিতি ছিল। ’৯১ সালে তরুণ হয়েও দুর্নীতি-সন্ত্রাসে হাত পাকান তিনি। নেপালে এনবিবিএল ব্যাংকের মালিক বাদল একসময় ছিলেন তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী। তিনি এল আর এল গ্লোবাল নামে ১৯৯৬ সালে শেয়ার বাজার থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তারেক রহমানের সহায়তায়।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেন তারেক ও তার বাহিনী।
সেই আমলে শুধু সোনালী ব্যাংক থেকে জালিয়াতি হয় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা, যার মূলে ছিলেন গুণধর তারেক।
এটা সবাই জানেন যে, হলমার্কের তানভির আসলে হাওয়া ভবনের লোক। তারেক জিয়া সুইস ব্যাংকে ২৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে প্রমাণ আছে।
এছাড়া প্যারাডাইস পেপার অনুসারে ২০০৪-২০০৫ সালে কেইম্যান আইল্যান্ডে এবং বারমুডায় তারেক জিয়া ২ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন।
এ তো গেলো তার অতীত অপকর্মের কথা। তবে সন্ত্রাস-দুর্নীতির দায় নিয়ে পলাতক থাকা তারেক থেমে নেই। বিদেশের মাটিতে বসেও চলছে তার স্বভাবসুলভ কুকর্ম
অনুসন্ধানে জানা যায়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। মনোনয়ন বাণিজ্যের সিংহভাগ টাকাই বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রমতে, পাচারকৃত টাকা চলে গিয়ে গিয়েছে তারেক জিয়ার কাছে। বাকি টাকার কিছু অংশ পেয়েছেন তারেক বলয়ের নেতারা। অন্যদিকে গোপনে মনোনয়ন বাণিজ্য করতে গিয়ে হয়েছেন লাঞ্চিত। আর সব দেখেশুনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ফুঁসে ওঠেছেন।
সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত তারেক জিয়ার নাম উচ্চারণেও যারা ভীত ছিলেন, তারাই এখন প্রকাশ্যে তারেককে গালিগালাজ করছেন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সেসব ভিডিও-সংবাদ নিমেষেই চলে যাচ্ছে মানুষের হাতে হাতে।
শ্রীমঙ্গলের উপজেলা পর্যায়ের এক নেতার সমাবেশের ভিডিও তারই সর্বশেষ সংযোজন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সেই নেতা তারেককে কুলাঙ্গার বলে আখ্যায়িত করছেন। কর্মীরাও স্লোগান ও হাততালিতে তাকে স্বাগত জানাতে ভোলেননি। সবমিলিয়ে বিএনপির অবস্থা এখন টালমাটাল।
মনোনয়ন বাণিজ্য এখন তাদের জন্য গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে।
বিএনপির একাধিক মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তারা তারেক জিয়া বা তাঁর প্রতিনিধিদের টাকা দিয়েছেন। গত বছর জুন থেকে বিএনপিতে মনোনয়ন বাণিজ্য শুরু হয় বলেও বঞ্চিতরা জানিয়েছেন। যারা টাকা দিয়েছেন তারা স্বীকার করেছেন যে, টাকা দেওয়ার আগে অন্তত একবার তারা লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারেক জিয়া তাদের যাকে যেভাবে এবং যেখানে টাকা পাঠাতে বলেছেন, সেখানেই টাকা পাঠিয়েছেন। কেউ কেউ একবারে আবার কেউ কেউ একাধিকবার টাকা পাঠিয়েছেন। তারেক জিয়া ছাড়াও বিএনপিতে তারেক ঘনিষ্ঠ অন্তত দু’জন নেতা তারেক জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে
মনোনয়ন বঞ্চিত বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ন্যুনতম ১০ কোটি থেকে কোথাও কোথাও ১০০ কোটি টাকাতেও মনোনয়ন বিক্রি করেছে। চাঁদপুরের একটি আসনে মালয়েশিয়া প্রবাসী একজন ১০০ কোটি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন কিনেছেন।  মানিকগঞ্জের একজন প্রার্থী ২০ কোটি টাকা দিয়ে মনোনয়ন পেলেও তা পরে প্রত্যাহার করা হয়। টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি এখন তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের একটি আসন বিক্রি হয়েছে ২০ কোটি টাকায়। ঐ আসনে দুজন প্রার্থীর কাছ থেকেই মনোনয়নের জন্য টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বঞ্চিতদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার একটি আসনে একজন মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী আজ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি হুণ্ডির মাধ্যমে চার দফায় লন্ডনে ৭ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন। বিএনপি মহাসচিব এখন দলের স্বার্থে এসব নিয়ে ঝামেলা না করার পরামর্শ দেন। মির্জা ফখরুল আশ্বাস দেন, নির্বাচনের পর এসব বিষয় দেখা হবে।
তবে ফখরুলের এ আশ্বাসকে ফাঁকা বুলি হিসেবেই ভাবছেন কর্মীরা। বিক্ষুব্ধ একজন কর্মী বলেন, যিনি কর্মীদের হাত থেকে নিজের পরিধেয় বস্ত্রই রক্ষা করতে পারেন না, তার এ আশ্বাস হাস্যকর।
অন্যদিকে, সিলেটে মনোনয়নপ্রত্যাশী একজন তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দাকে প্রথমে ৭০ লাখ, পরে ৫০ লাখ টাকা হুণ্ডির মাধ্যমে পাঠান। সিলেটের নবনির্বাচিত মেয়রের মাধ্যমে ঐ মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. জোবায়দার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু এখন তিনি ডা. জোবায়দার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথিও চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহের দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর কাছে নগদ টাকা নেন। দুবার দেশে এসে তিনি এই টাকা নেন। কিন্তু এখন সিঁথিকেও পাচ্ছেন না তারা।
তারেক অথবা তার প্রতিনিধিদের হাতে এভাবে টাকা তুলে অনেক নেতাই এখন নিঃস্ব। দলের কোথাও অভিযোগ করার মতো স্থানটুকুও খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।
এসব জেনে আমজনতা বলছেন ‘প্রতি বছর নির্বাচন হলেই তো তাহলে বিএনপির ভালো! অন্তত লন্ডনে তারেকের আরাম আয়েশের বন্দোবস্ত আরো ভালোভাবেই হবে’।
বিএনপি নামক দলটির এমন দুরবস্থা দেখে হতবাক বিশ্লেষকেরাও। তারা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহে এসব দুর্নীতির কথা চাপা থাকবে না।
‘বিএনপি তাদের অতীত ভুলের মাশুল আজও দিচ্ছে। এখনকার ভুলের মাশুল দেয়ার সুযোগ আসার আগেই দলটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে’ এমনটিই অভিমত অনেকের। বিশেষত তারেকের মতো একজন দণ্ডিত আসামী যেভাবে দলটির উপরে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, তা দেশের জন্যও অশনিসংকেত বলে মনে করছেন তারা।

মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী বিএনপি নেতারা গ্রেফতার হলে আপত্তি নেই ফখরুলের, কর্মীদের ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক: সত্যকথনের জন্য বিএনপিতে অনেক নেতাই কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। এবার তাদের তালিকায় নাম উঠলো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সম্প্রতি তিনি তার একটি বক্তব্যে বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সম্পৃক্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। সূত্র বলছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক দলীয় নেতা-কর্মী যাতে রাজনৈতিকভাবে গণ-গ্রেফতারের শিকার না হয় সেজন্য প্রয়োজনে দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে দলের পক্ষ হতে কোন আপত্তি থাকবেনা মর্মে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন রাজনৈতিক গ্রেফতার না এড়ালে নির্বাচনে দলের কোন কর্মী সমর্থককে প্রচারণায় পাওয়া যাবেনা। মনোনয়ন বাণিজ্যসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় দলের অবস্থা এমনিতেই শোচনীয়। তার উপর গণগ্রেফতারের আতঙ্কে নেতা কর্মীরা বাড়িঘরে যেতে পারছেননা। এজন্য তারেক রহমানের নির্দেশেই মহাসচিব মূলতঃ দলের কতিপয় চিহ্নিত দুস্কৃতিকারীদের অনেকটা বিপদে ফেলেই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে দলের প্রতি বিদেশী শক্তিসহ সাধারণ মানুষের আস্থার উন্নতি ঘটবে। পাশাপাশি গণগ্রেফতার এড়িয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ মসৃণ হবে।
মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জের ধরে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুঁসে উঠেছেন। তারা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ধরণের বক্তব্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের বৈধতা দিচ্ছেন।
সূত্র বলছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আবার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কালিমা অনেক আগে থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘাড়ে আছে। এমনকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যাতেও পিছিয়ে নেই বিএনপি। দলের কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দণ্ডিত আসামি। ফলে এমন প্রেক্ষাপটে দলের মহাসচিব হয়ে পরিস্থিতির কথা বিবেচনা না করে তার সাংঘর্ষিক বক্তব্য কিছুতেই মানতে পারছে না দলের নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ফখরুল সাহেব এমন অবিবেচকের মতো বক্তব্য দেবেন তা মেনে নেয়া যায় না। কেননা, এখন পর্যন্ত দুর্নীতির দায়ে আমাদের দলীয় প্রধান কারাগারে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দণ্ডিত। ফলে তিনি এমন বক্তব্য দিয়ে তারেক রহমানের গ্রেফতারকেও উস্কে দিয়েছেন। এমনকি নেত্রীর কারান্তরীণ হওয়াকে বৈধতা দিয়েছেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।
মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্য দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার নামে বেশ কিছু মামলা ঝুলছে। কয়েকটি মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও আছে। তার মানে আমাকে গ্রেফতার করলে সেটি বৈধ হবে? ফখরুল সাহেবের এমন বক্তব্য দলীয় আচরণ পরিপন্থী।
এদিকে বিএনপির তৃণমূল থেকে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসছে বলেও জানা গেছে। তারা বলছেন, বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে- সেগুলো ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে বিগত ১০ বছরে হওয়া। কেবল দলের জন্যই মামলা ঘাড়ে নিয়ে চলতে হচ্ছে। যদি গ্রেফতার হই তবে এর দায়ভার কে নেবে?

দায় এড়াতে না পেরে সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে গেলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন

নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট মেহমুদের সঙ্গে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের টেলি কথোপকথন গণমাধ্যমে ভাইরাল হবার পর উক্ত ঘটনার দায় এড়াতে বিবৃতি দিয়েছেন খন্দকার মোশাররফ।
বিএনপির লোগো সম্বলিত একটি কাগজে খন্দকার মোশাররফ উল্লেখ করেন, আইএসআইয়ের এজেন্টের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জড়িত নন। তবে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারছেন না।
খন্দকার মোশাররফের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিবিসি নিউজের সম্পাদক নবনীতা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি হাস্যকর। খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলাও করেছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আলী সুমন। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকার অজুহাত দেখিয়ে নিজের পক্ষে কিছু বলার জন্য সংবাদ সম্মেলন করার কোনো প্রয়োজন মনে করলেন না তিনি। এতেই বোঝা যাচ্ছে আইএসআইয়ের সঙ্গে তার কথোপকথন সম্পূর্ণ সত্যি। কারণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের মারপ্যাঁচে পড়ে তিনি হয়তো সত্যিটা বলে দিতে পারেন। আর এ কারণেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসতে চাচ্ছেন না।
আইএসআইয়ের এজেন্টের সঙ্গে কথোপকথন ছাড়াও গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে ২৫ কোটি টাকার গোপন চুক্তির বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে খন্দকার মোশাররফ জর্জরিত হতে পারে বলে জানিয়ে এটিএন নিউজের চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর মুন্নী সাহা বলেন, খন্দকার মোশাররফ নির্বাচনী প্রচারণার অংশ স্বরূপ নির্বাচনে বিএনপির বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে গ্রামীণ ফোনের টেক্সট এসএমএস ও ভয়েস এসএমএস সুবিধা গ্রহণ করতে গ্রামীন ফোনের সঙ্গে ২৫ কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন। যা বর্তমানে ওপেন সিক্রেট হয়ে গিয়েছে। খন্দকার মোশাররফ সংবাদ সম্মেলন করলে আইএসআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয় ছাড়াও সাংবাদিকরা অবশ্যই গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে চুক্তি হওয়া অর্থ কোথা থেকে এসেছে তাও জানতে চাইবেন। যার উপযুক্ত উত্তর হয়তো খন্দকার মোশাররফের কাছে নেই, আর এ কারণেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করতে চাচ্ছেন না।
এদিকে খন্দকার মোশাররফের নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো ইস্যুকে এড়িয়ে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না হওয়াকে খোঁড়া যুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুন নূন তুষার বলেন, মোশাররফ হোসেন যদি চাইতেন তাহলে কুমিল্লাতেও সংবাদ সম্মেলন করতে পারতেন। কিন্তু তার কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উপযুক্ত উত্তর নেই। এ মুহূর্তে তাকে অপরাধ স্বীকার করে আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিজেকে সোপর্দ করাই উত্তম হতে পারে বলে আমি মনে করছি।

Thursday, December 13, 2018

বিদ্রোহী প্রার্থীতে কোণঠাসা বিএনপি

আন্ত:কোন্দলের ফাঁদে পড়েছে বিএনপি। কোনো কিছুতেই  বিএনপির এই কোন্দল কমছে না। বরং নির্বাচন সন্নিকটে হওয়ার সাথে সাথে এই কোন্দলও বেড়ে যাচ্ছে। দলে কোন্দলের জন্যই মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।
শুরু থেকেই বিএনপিতে নিত্যনতুন জটের অন্ত ছিলো না। দলের নেতাকর্মীদের রয়েছে অবৈধ সম্পত্তির জট, টাকা আত্মসাতের জট, দুর্নীতির জট। মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হয়েছে এই সমস্যা। বিএনপির একটি আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন একাধিক প্রার্থী। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সব দিক বিবেচনা করে মনোনয়ন দিয়েছেন একজনকে। কিন্তু রেষারেষিপূর্ণ বিএনপির প্রার্থীরা তা মেনে নেননি। অন্যান্য প্রার্থীরা যারা মনোনীত হননি তারা আর মনোনয়নপত্র তুলে নেয়নি।  ফলে বেশিরভাগ প্রার্থী বিদ্রোহীভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর অন্তঃকোন্দল পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রেজাউল করীম। তিনি থানা বিএনপির সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর। তার বিপরীতে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে মনোনয়ন কিনেছেন বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী বাদশাহ। তিনি পৌর বিএনপির সভাপতি। বাদশাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান। রেজাউলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। জনপ্রিয়তায় বর্তমান মেয়র বাদশা এগিয়ে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। সাবেক দুই এমপির দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীর সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন আসনে সৃষ্টি হয়েছে চরম দ্বন্দ্ব।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিএনপির টিকিট পান কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতিকে এম আই খলিল। তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার কারণে তিনি দলের প্রতীক সংবলিত চিঠি নিয়ে নিজ এলাকায় ফেরেন। কিন্তু শেষরাতে পাল্টে যায় মনোনয়ন প্রার্থী। খলিলের বদলে বিএনপির মনোনয়ন পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সমর্থক নাইম সরকার। কিন্তু দলের মনোনয়নপত্র নিয়ে কুমিল্লায় যাওয়ার আগেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন কে এম আই খলিল। এই নিয়ে এলাকায় বিরাজ করে চরম উত্তেজনা।
জোর যার মুল্লুক তার পদ্ধতিতেও বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় রয়েছে অনেক নেতাকর্মী। দলের সেই নেতাকর্মীদের বদৌলতেও মনোনয়ন পেয়েছেন অনেকে। এতে করে ছিটকে পড়েছে এলাকার অনেক জনপ্রিয় নেতারা। ছিটকে পড়া নেতারা ও তাদের কর্মী সমর্থকরা এজন্য বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবে।
বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় চলেছিল টাকার খেলা। যে যত বেশি টাকা দিয়ে দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীদের খুশি করতে পেরেছে,  মনোনয়ন পত্রের দৌড়ে সে তত বেশি এগিয়ে ছিল। কিন্তু এই টাকার খেলার কথা জেনে যায় দলের বাকি নেতাকর্মীরা। আর তা জানতেই আগুনের ভেতর ঘি ঢালার মতো অবস্থা হয়।
বিএনপির নিজস্ব কৃতকর্মের জন্যই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পরিমাণ বেড়েছে। বর্তমানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য কোণঠাসা অবস্থায় বিএনপি।

নির্বাচনকে ঘিরে সক্রিয় একাধিক উগ্রবাদী সংগঠন, ষড়যন্ত্র রুখতে মাঠে গোয়েন্দারা (ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে উঠেছে উগ্রবাদী একাধিক সংগঠন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সদস্যরা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে জানিয়ে ওই বার্তায় বলা হয়, এবার নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা। তাই ষড়যন্ত্র রুখতে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে দেশের সুপ্রশিক্ষিত গোয়েন্দারা। এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দেশি-বিদেশি একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরের সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিট ও একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, জঙ্গি সংগঠনগুলোর নতুন সদস্য ও তহবিল সংগ্রহ এবং নতুন টার্গেট নির্ধারণের তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অভিমত, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক কারণেই উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতা বাড়ে। কারণ এদের দিয়ে রাজনীতি প্রভাবিত করা সম্ভব হয়। এখন উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সদস্যরা এমন টার্গেট নির্ধারণ করবে, যাতে নির্বাচন যেকোনমূল্যে বিতর্কিত করা যায়। আর এরমাধ্যমে তারা বিশেষ স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করবে।
এদিকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনগুলো সব সময়ই সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। সে চেষ্টা এবার আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তারা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য আমরা সতর্কতা অবলম্বন করছি।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, জঙ্গিদের আগের মতো সাংগঠনিক শক্তি নেই। অভিযানে অনেক নেতা ধরা পড়েছে, অনেকে মারা গেছে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনুপস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বে চলে এসেছে। তারাই সদস্য ও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয়তাবাদী দর্শনের আড়ালে থেকে উগ্রবাদীরা সংগঠিত হয়ে নাশকতার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সারা দেশেই তারা নজরদারি বাড়িয়েছেন। তবে নির্বাচনকে ঘিরে নোয়াখালী ও ফরিদপুরে দুই জন আওয়ামী লীগের নেতাকে হত্যা করে উগ্রবাদীরা তাদের সক্রিয়তার জানান দেয়ার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যার রহস্য অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে জানিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, জঙ্গিরা তহবিল সংগ্রহে ডাকাতি-ছিনতাই করছে বলেও তথ্য আছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে সরকারি দলের কর্মীদের হত্যার মিশনে নেমেছে উগ্রপন্থীরা, এমন তৎপরতার তথ্য একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাদের সক্রিয়তার প্রমাণ মিলছে এসব হত্যাকাণ্ডে।
অন্যদিকে বিদেশি গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ভারতের এক জঙ্গি কারাগারে বসে দুটি চিঠি লিখেছেন। যা মূলত ময়মনসিংহের প্রিজন ট্রাজেডির সেই সালেহীন অর্থাৎ জেএমবি প্রধানের উদ্দেশ্যে লেখা। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘অ্যামুনেশন সংগ্রহে তৎপর হওয়া দরকার। সামনে নির্বাচন। বিভিন্ন রকম সহিংসতা হবে। এই সুযোগ কাজে লাগানো দরকার।’
প্রসঙ্গত, উগ্রবাদীদের মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। তাই ষড়যন্ত্র রুখতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার আগেই আওয়ামী নেতাকে গুলি করে হত্যা করলো বিএনপি

নিউজ ডেস্ক : নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে মো. হানিফ (২৪) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে বিএনপি কর্মীরা। এসময় নুরুল ইসলাম (২৭) নামের আরেক কর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাজীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. হানিফ দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের মফিজ উল্যার ছেলে। তিনি এওজবালিয়া ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
এঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী অভিযোগ করেছেন সকাল থেকে জামায়াত বিএনপির নেতারা বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে।
তিনি জানান, নোয়াখালী-৫ আসনে কবিরহাটে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইসমাইলসহ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, দত্তের হাট বাজার এবং করিমপুরের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। এরপর বিকেল পোনে ৫ টায় এওজবালিয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের নির্দেশে এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিজভির নেতৃত্বে হানিফকে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে মনে করে পায়ে গুলি করে।
এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, বিকেলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রহিম রিজভীর বাড়িতে উঠান বৈঠক চলছিল। পরে স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে হামলা চালায়। এসময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে যুবলীগ নেতা হানিফ কীভাবে নিহত হয়েছে তা জানেন না তিনি।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আজিম জানান, তার দুই পায়ে গুলি ও মাথা’সহ শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।