Thursday, September 13, 2018

তারেককে অমান্য করেই পথ চলছেন ফখরুল

নিউজ ডেস্ক: দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্য করেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক পথ চলছেন। তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের আমন্ত্রণে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল।

লন্ডন বিএনপির সিনিয়র এক নেতার মাধ্যমে জানা যায়, তারেক জিয়া বৈঠকে যোগদান করতে নিষেধ করলে, উপস্থিত হয়নি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদসহ আরও দুজন উচ্চ পর্যায়ের নেতা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করতে বলেন দলের মহাসচিবকে। কিন্তু মির্জা ফখরুল তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এই ঘটনায় বিএনপিতে তারেকপন্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সূত্রমতে, লন্ডন প্রবাসী তারেক জিয়া ফোন করে বিএনপি মহাসচিবের নিকট জানতে চান, জাতীয় নির্বাচনের আগে বৈঠক করা কতটা যৌক্তিক। তাছাড়া তারেক জিয়া বলেন, ‘তার হাতে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) তো ক্ষমতা নেই, ওখানে কী হবে? এতে তো বিএনপির দুর্বলতাই প্রকাশ করবে।’ অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা তারেক জিয়ার এই বক্তব্য মেনে নেননি। পাল্টা যুক্তি দেখান যে, বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার আরও দেড় মাস ক্ষমতায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুলের এই যুক্তিতে তারেক রহমান সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি মির্জা ফখরুলকে বলেন, ‘আমার মা যদি ৭ মাস এভাবে থাকতে পারে, তাহলে আরও দুমাস থাকতে পারবে।’আমি আমার মাকে হাসপাতালেও দেখতে চাই না, মুক্তও দেখতে চাই। যদি ওনার মুক্তির জন্য কিছু করতে পারেন, করেন, না হলে এসব আলোচনায় গিয়ে কোনো লাভ নেই। এসময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি ম্যাডামের মুক্তি চাই, সুচিকিৎসাও চাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি সুচিকিৎসার দাবি নিয়েই যাচ্ছি।’
তারেক রহমান বিএনপি মহাসচিবকে বোঝাতে না পেরে তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের ওই বৈঠকে যোগদানে নিরুৎসাহিত করেন। তৃণমূলে এবং তরুণদের মধ্যে তারেক জিয়ার অবস্থান অত্যন্ত শক্ত হলেও সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তার অবস্থান নড়বড়ে। তবে, বিএনপির তরুণ এবং তৃণমূলের নেতারা বলছেন, যখন আমরা বলছি সর্বাত্মক আন্দোলনের কথা তখন আমাদের নেতারা আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঢাকা মহানগরীর একজন তরুণ নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে আত্মঘাতী হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এটি কর্মীদের ভুলবার্তা দেবে। এর ফলে কর্মীরা রাজপথে আন্দোলনের উৎসাহ হারাবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বিএনপি মহাসচিবের এই বৈঠককে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। দলের কর্মীদের তিনি বলেছেন, ‘এভাবে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা হবে না। তারা যদি সুচিকিৎসাই দিতো, তাহলে তো এভাবে ম্যাডামকে বন্দী করে রাখতো না।’
রিজভী কর্মীদের বলেছেন, ‘আমাদের সিনিয়র নেতারা যদি সত্যি বেগম জিয়ার মুক্তি চান, তাহলে অবশ্যই তাদের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা উচিত। আগামীর দেশনায়ক তারেক রহমানকে অমান্য করে ফখরুল সাহেব মোটেই ভাল করছেন না।’

খালেদার অপরাধ স্বীকার করে নেয়ায় খন্দকার মোশাররফের উপর ক্ষুব্ধ বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ধরে কারাভোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এদিকে ঘাড়ে ঝুলে আছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলা। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার প্রতিটি অপরাধই স্বীকার করে নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অপরাধ স্বীকার করে নেয়ার পাশাপাশি তিনি খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে বিচারের পরামর্শও দিয়েছেন।
৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে মহিলা দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শেষে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করে সুস্থ করে বিচার করুন। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আলোচনা এসেছে যে, খন্দকার মোশাররফের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং বিএনপি নেতারা তা জানেও যে, খালেদা জিয়া যেসব মামলায় অভিযুক্ত সেসব দুর্নীতি-সন্ত্রাস জানা সত্ত্বেও বিএনপি তা অস্বীকার করে। সেই সত্যই মোশাররফের কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে তারা চায়, খালেদা জিয়া যেহেতু অপরাধ করছে তাই সুস্থ করে তার বিচার করা উচিৎ।
এদিকে বিএনপি নেতারাও খন্দকার মোশাররফের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ। এ প্রসঙ্গে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, দিন দিন দলের সিনিয়র নেতাদের যে বয়স হচ্ছে তা লক্ষ্য করলেও বোঝা যায়। আমরা যখন খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নানা আন্দোলন কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছি, তখন তিনি খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচার করার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে।
ড. মোশাররফের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানা গুঞ্জন। নানা সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদসহ দলের অনেক নেতার বক্তব্যের সঙ্গে ড. মোশাররফের বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে নেতাই। তারা বলছেন, মোশাররফ এখন কার? তিনিও কী ম্যানেজড?

কিসিঞ্জারের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বার্নিকাটের সেলফিতে রূপান্তরের গল্প

গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানে যুক্ত হওয়া ‘আকাশবীণা’ নামের অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান এর শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকাশবীণা উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট।
এ সময় আকাশবীনা বিমানের ইকনোমি ক্লাস পরিদর্শনের সময় বার্নিকাট নিজের মোবাইলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছু সেলফি তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তোলা বার্নিকাটের তোলা সেলফি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই সেলফি দেখার পর অনেকেই এই সেলফির সাথে বাংলাদেশকে নিয়ে করা কিসিঞ্জারের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। কিসিঞ্জারের ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ বাংলাদেশ সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়ে আজ তার দেশের রাষ্ট্রদূতের সেলফিতে বন্দী হয়েছে।
পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় মার্কিন রাজনীতিবিদেরা সে সময় মেনে নিতে পারেনি। বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার সংগ্রামে লড়ছে, কিসিঞ্জার তখন আমেরিকান সরকারের নিরাপত্তা বিশ্লেষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমেরিকার বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তান ভেঙে আলাদা হয়ে যাক, এটা তারা কোনভাবেই চায়নি, তাই রিচার্ড নিক্সনের আমেরিকা সরকারের পাশাপাশি হেনরি কিসিঞ্জারের পূর্ণ সমর্থন ছিল পাকিস্তানের প্রতি।
স্বাধীনতা অর্জনের পরও বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশগুলোর অনেকের মধ্যেই বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক একটা ধারণা ছিল। তারা ভাবতো, তাদের করুণা ছাড়া বাংলাদেশ কখনও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আরেকটা দল মনে করতো, বাংলাদেশকে সাহায্য দিয়েও লাভ নেই, হেনরি কিসিঞ্জার এই দলেরই একজন ছিলেন, তিনি তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একবার তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে একটা তলাবিহীন ঝুড়ি, এখানে যতো অর্থই ঢালা হোক না কেন, সবটাই বিফলে যাবে’। সেই তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ সব দিক দিয়ে পরিপূর্ণ।
বছর চারেক আগে তারই দেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা তো এক অনুষ্ঠানে কিসিঞ্জারের কথা টেনে এনে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশকে এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি বলার কোন সুযোগ নেই, বাংলাদেশ এখন পরিপূর্ণ ঝুড়ি’।
হেনরি কিসিঞ্জার তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করেছিলেন বাংলাদেশকে, সেই বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার এখন ৭.৬৫%, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের স্যাটেলাইট উড়েছে মহাকাশে। সার্বিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল।

‘৭ মার্চ’ ভবনের পর আসছে ‘জয় বাংলা’ ছাত্রহল

দেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালে ১২টি বিভাগ, ৩টি অনুষদ, ৩টি হল ও ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু দিন যাওয়ার সাথে সাথে দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার।
দেশের নানান প্রান্ত থেকে বিদ্যার্জনের জন্য প্রতি বছর কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি যুদ্ধে অংশ নেয়। সেখান থেকে বাছাইয়ের মাধ্যমে মেধাবীদেরই স্থান হয় দেশের এই সেরা বিদ্যাপীঠটিতে। কিন্তু দিন দিন শিক্ষার্থী বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট বড় আকার ধারণ করেছে।
শিক্ষার্থীদের সমস্যা কিছুটা লাঘবের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পরিকল্পনায় একটি করে ছাত্র ও ছাত্রী হল নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ছাত্র হলটির নামকরণ করা হবে ‘জয় বাংলা’। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১৫ তলা বিশিষ্ট এই হল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তির লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। জয় বাংলা হলটি নিউমার্কেট সংলগ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস এলাকায় করার বিষয়ে স্থান নির্বাচন কমিটি কর্তৃক সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে আগামী প্রজন্মের কাছে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য হলের নাম এটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বর্তমান সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার ফিরে পাবে তার সেই পুরোনো ঐতিহ্য এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

দুই নৌকায় পা দিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি

দিন যত যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন ততই কাছে আসছে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন চায়- সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু নির্বাচন।
দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আওয়ামী লীগ বর্তমানে ক্ষমতায় বহাল থাকলেও অপর দল নানা অপকর্ম, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে রয়েছে অনেক দূরে। নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েও গরম করতে পারছেনা রাজনীতির মাঠ। ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে রয়েছে বিএনপি।
দুর্নীতির দায়ে ছয় মাসের বেশি কারাগারে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেকও রয়েছে দেশের বাহিরে। মামলার ভার কাঁধে নিয়ে আটকের ভয়ে দেশে ফিরছেন না তারেক। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করে দিলেও দোটানায় রয়ে গেছে বিএনপি। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন ও আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে।
দলের নেতা কর্মীরা কেউ চাচ্ছে খালেদার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করে তাকে মুক্ত করার পর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। তারা খালেদাকে ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে  চাচ্ছে না। আবার কেউ বলছে খালেদার মুক্তি নিয়ে যদি পরে থাকতে হয় তাহলে আসন্ন নির্বাচনে ভালো প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব না। এজন্য নির্বাচনের পর মাঠে নামতে চাচ্ছেন খালেদার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে। এ দুটি ইস্যু নিয়ে অন্তঃকোন্দল সৃষ্টি হয়েছে  বিএনপিতে।
বিএনপিতে দলের ভিতর একাধিক দল সৃষ্টি হয়েছে। তারা বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। একদল চাচ্ছে খালেদাকে মুক্ত করে নির্বাচনে অংশ নিতে। অপর দল চাচ্ছে খালেদাকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে এবং নির্বাচনের পর খালেদার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে। এই নিয়ে দুই নৌকায় পা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে এরকম দোটানায় ভুগলে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ অনেকটা ধোঁয়াশা হয়ে যাবে। এমনকি বিএনপির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মনোভাবও ক্ষীণ হয়ে যাবে।

Wednesday, September 12, 2018

যুবদল কর্মীদের হাতে অপদস্থ রিজভী

এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়ে গত ৭ মাস ধরে কারাবন্দী আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে বিএনপির দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি। খালেদার মুক্তি ছাড়া বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর তাই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে মরিয়া বিএনপি, সক্রিয় কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছেনা বিএনপি।
দলীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন করেছে। এদিকে মানববন্ধনকে ঘিরে প্রেস ক্লাব এলাকায় বেড়ে গেছে বিড়ি সিগারেট বিক্রি। মানববন্ধনে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা নেতাদের ভাষণ শোনা বাদ দিয়ে ধূমপানে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে প্রেসক্লাব এলাকায় অনেকেরই শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো বলে জানা গেছে। বিএনপির কর্মীরা তাদের সিনিয়র নেতাদের সামনেই ধূমপান শুরু করলে অনেক নেতাই বিব্রত বোধ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানা যায়- ঢাকা উত্তর যুবদলের কয়েকজন কর্মী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভীর সামনে ধূমপান শুরু করলে, তিনি তখন তাদের ধমক দিয়ে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে বলেন, কিন্তু তখন যুবদলের কর্মীরা প্রত্যুত্তরে রিজভীকে বলেন, ‘আমাদের অযথা ধমক না দিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার কর্মসূচি দেন। আপনারাতো শুধু সংবাদ সম্মেলনে বড় বড় কথা বলেন, কাজের বেলায় তো পাওয়া যায়না। ম্যাডাম জেলে থাকাতে আপনাদেরতো সুবিধাই হইসে, নিজের খেয়াল খুশিমতো দল চালাচ্ছেন’। এসময় রিজভী হতবম্ভ হয়ে পড়েন নিজ দলের কর্মীদের এমন আচরণে। পরবর্তীতে মাথা নিচু করে উক্ত স্থান ত্যাগ করেন রিজভী।
এদিকে দলের অন্য সিনিয়র নেতারা যুবদলের কর্মীদের হাতে রিজভীর অপমানিত হওয়ার খবর শুনে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়ীদের বের করে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

Monday, September 10, 2018

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮: বিদ্যুৎ খাতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন একেবারেই অসম্ভব, অকল্পনীয়। কোনো দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ও পূর্বশর্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা বিধান করা। সেই লক্ষ্যে গত এক দশক ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার; যার প্রভাব পড়েছে জনজীবনে ও ব্যবসা বাণিজ্যে।
বর্তমানে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত গ্রামাঞ্চল থেকে শহরাঞ্চল। বিদ্যুতের আলোয় মানুষের জীবন, জীবিকা এবং ব্যবসায় এসেছে গতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাস্তবায়িত হচ্ছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ প্রকল্প।
বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাফল্য তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে জানাতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮’। ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, নতুন যৌবনের দূত’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিতব্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালে সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল মাত্র ৪০৩৬ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের অভাবে দেশের সকল আবাসিক স্থাপনাসহ শিল্প কারখানাগুলো স্থবির ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার সময় তাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং লোডশেডিং থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংগতি মাথায় রেখে চাহিদা অনুযায়ী যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ বর্তমান সরকারের জন্য৷
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ২০০৯ সালের ৬ জুন। এরপর প্রতিবছরই দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো ১০ হাজার ১৩৭ মেগাওয়াট।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সময়ে এর আগে ২০১৬ সালে ৩০ জুন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৯ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট। এর আগে ২০১৬ সালের ৯ জুন দেশে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৭৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট সর্বোচ্চ ৮ হাজার ১৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছিল।
বিগত নয় বছরে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন ৮৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আর এ সময়ে অবসরে গেছে মাত্র তিনটি কেন্দ্র। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭টি আর এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি।
সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে- দেশের প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে ২০২১ সাল নাগাদ। এজন্য বিদ্যুতের উৎপাদন যা-ই হোক না কেন, প্রতিমাসেই নতুন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে প্রতিমাসে নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ায় সংকট সৃষ্টি হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।